Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্লাস্টিকের খেলনা রমরমা, রথে মাটির পুতুলেই বাজিমাত দাঁইহাটের মৃৎশিল্পীদের

প্লাস্টিকের গ্রাসে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির পুতুল। ঘর সাজানো থেকে শিশুদের খেলনা সবেতেই জায়গা করে নিচ্ছে প্লাস্টিক। রথের মেলার জন্য মাটির পুতুল তৈরি করেছেন দাঁইহাটের মৃৎশিল্পীরা।

প্লাস্টিকের খেলনা রমরমা, রথে মাটির পুতুলেই বাজিমাত দাঁইহাটের মৃৎশিল্পীদের
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্লাস্টিকের গ্রাসে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির পুতুল। ঘর সাজানো থেকে শিশুদের খেলনা সবেতেই জায়গা করে নিচ্ছে প্লাস্টিক। রথের মেলার জন্য মাটির পুতুল তৈরি করেছেন দাঁইহাটের মৃৎশিল্পীরা। ঘোড়ায় চাপা রাজা, জগন্নাথ, গোপাল থেকে নানা রংবেরঙের মাটির পাখি ও পুতুলের পসরা নিয়ে যাওয়া হয়েছে রথের মেলায়। বিক্রিবাটা কম হলেও রথের মেলায় মাটির পুতুল সাজিয়ে বসেন মৃৎশিল্পীরা। প্লাস্টিকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁরা এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

Advertisement

দাঁইহাট শহরের পাতাইহাট পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা প্লাস্টিকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। দিনরাত এক করে তাঁরা মটির পুতুল তৈরি করছেন। কিন্তু প্লাস্টিকের খেলনা দাইহাটের প্রাচীন পুতুল শিল্পের বিপদ ডেকে এনেছে। দাঁইহাট পালপাড়ার বাসিন্দা মৃৎশিল্পী শ্যাম পাল বাড়িতেই ছোট কারখানা গড়ে তুলেছেন। সেখানেই তিনি মাটির পুতুল তৈরি করেন। এসব মাটির পুতুল বিক্রি হয় ২০-১০০ টাকায়। রথের মেলায় কাটোয়া, দাঁইহাটজুড়ে আগে মাটির নানা পুতুল বিক্রি হতো। এখন প্লাস্টিকের দৌলতে আর সেভাবে মাটির পুতুল আসে না মেলায়। তবে দাঁইহাটের শ্যামবাবু পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। এখনও মাটির পুতুল তৈরি করে মেলায় যান। মৃৎশিল্পী শ্যাম পাল বলেন, প্লাস্টিক আমাদের সব শেষ করে দিল। তিরিশ বছর ধরে আমরা মাটির পুতুল তৈরি করে রথের মেলায় যাচ্ছি। এখনও যেটুকু পারি তা করার চেষ্টা করি। পরিশ্রমের মূল্য পাই না। যা দাম পাই সেটাই লাভ। ওই শিল্পী আরও বলেন, বয়স হয়েছে। শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে। আমার স্ত্রীও মাটির পুতুল  তৈরি করে কিছু সাহায্য করেন। পূর্বস্থলীর চুপি স্টেশন চত্বরে ১৫-২০টি পরিবার মাটির পুতুল তৈরির পেশার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় এক মৃৎশিল্পী অনিতা পাল বলেন, রথযাত্রা ও উল্টোরথ উপলক্ষ্যে পুতুল বিক্রি হয়। সেইমতো রথের মেলার জন্য পুতুল তৈরি হয়। চুপি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী সুমন পাল বলেন, বাবা, মা, কাকা, ঠাকুরদা  রথযাত্রা উপলক্ষ্যে পুতুল তৈরি করতেন। আমিও সেই পরম্পরা মেনেই পুতুল তৈরি করেছি। এবার  রথের মেলায় মাটির পুতুলের বেচাকেনা বেশি হবে বলেই আশা করছি। শিল্পীদের হাতযশে মাটির হরেক পুতুল যেন প্রাণ পাচ্ছে।  মাথায় ঝুড়ি নিয়ে কৃষক, কলসি কাঁখে বধূ, গোপাল, শিব, বাঁদর, শিয়াল, বর-কনে কে নেই! রথের মেলায় নানান ধরনের এসব পুতুল সবার নজর কাড়বে। রথযাত্রার পর ঝুলন পুর্ণিমা। তাই ভালো বাজারের আশায় প্লাস্টিকের খেলনার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন দাঁইহাটের মৃৎশিল্পীরা। পরিশ্রমে কোনও খামতি রাখছেন না তাঁরা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ