নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতায় চাঁদার জুলুমের অভিযোগ। দাবি মতো চাঁদা না দেওয়ায় মৃৎশিল্পীকে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মানিকতলা থানার মুরারিপুকুরে। ক্লাবের সদস্যদের মারে মাথা ফেটেছে মৃৎশিল্পীর। চোখেও আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাঁর ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে মানিকতলা থানা। চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারিপুকুর এলাকায় স্থানীয় একটি ক্লাবের তরফে প্রতিবছর কালীপুজো হয়। ক্লাবের কাছেই প্রতিমা তৈরি করেন পরিতোষ চক্রবর্তী। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিবার রাতে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে এগারোটা বেজে যায় পরিতোষবাবুর। তিনি সামনে একটি ফাস্টফুডের দোকানে খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, এই সময় মুরারিপুকুর এলাকার ওই ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ধরে। মৃৎশিল্পীকে বলে, বিগত বছরে তিনি চাঁদা দেননি। পরিতোষবাবু জানান, কাজের চাপে গতবছর চাঁদা দেওয়া হয়নি। এবছর একসঙ্গে দু’বছরের চাঁদা দিয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগ, ওই ক্লাবের সদস্যদের একজন বলে, খুব চালাক হয়ে গিয়েছিস? কম টাকা দেওয়ার ছক করেছিস। এরপর তাঁর কাছে হাজার পাঁচেক টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। এই সময় এক যুবক আচমকা তাঁকে ঘুসি মারে। সঙ্গে থাকা ক্লাবের সদস্যরাও তাঁকে মারধর করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। তাঁর বুক পেট, মুখ লক্ষ্য করে ক্রমাগত মারতে থাকে তারা। তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই সময় কেউ তাঁর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। ঘটনা দেখে তাঁর ছেলে ও পরিবারের অন্যরা এগিয়ে আসেন। তাঁরাই মৃৎশিল্পীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। খবর দেওয়া হয় মানিকতলা থানায়। পুলিশ এসে আহত পরিতোষবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই পড়েছে। আঘাত রয়েছে শরীরের অন্য জায়গায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা দেখে ওই ক্লাবের সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, তারা চাঁদা তুলতে বেরিয়েছিল। সোমবার রাতে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবদ চলছে।