সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: শরতের আকাশ থেকে কড়া রোদ ঝরে পড়ছে। পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট বিসি রোডের পুজোর বাজার। কেউ আসছেন ভাতার থেকে, আবার কেউ রায়না থেকে। কার্জন গেট থেকে বর্ধমান থানার দিকে বাইক চালিয়ে আসছিলেন মঙ্গলকোটের কৈচরের প্রভাত চট্টোপাধ্যায়। বাইকে স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের শিশুকন্যা। ক্লাচ ধরে ধরে রানিগঞ্জ বাজার মোড় পর্যন্ত কোনোরকমে এলেন। তারপর আর স্ত্রীকে নিয়ে বাইক চালাতে পারলেন না। তাঁকে নামিয়ে ধীরে ধীরে কোনওরকমে এগোলেন। সৌজন্যে বিসি রোডের বেহাল রাস্তা। অনেকে অবশ্য রাস্তা না বলে, মজা করে বিসি রোডকে নদী বলছেন। নদীতে যেমন দুলতে দুলতে নৌকা চলে, বিসি রোডের রাস্তায় ঠিক তেমনভাবে বাইক চলছে। অনেকেই বলছেন, উৎসবের মরশুমে চেয়ারম্যান একবার বাইক বা সাইকেল নিয়ে বিসি রোডে আসুন। শহরবাসীর প্রতিদিনের দুর্বিষহ যন্ত্রণা টের পাবেন।
তবে শুধু বিসি রোড নয়, তেজগঞ্জ, আলমগঞ্জ, গোদা যেখানেই যাওয়া যাবে সেখানেই একই ছবি। শহর লাগোয়া কানাইনাটশাল, উল্লাস, নবাবহাটের রাস্তারও অবস্থা একইরকম। যন্ত্রণার শহর হয়ে উঠেছে বর্ধমান। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অপূর্ব সেনগুপ্ত বলেন, এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ শহরের রাস্তা এমন অবহেলায় পড়ে রয়েছে এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে। বিসি রোডে কেনাকাটা বা খোসবাগানে ডাক্তার দেখাতে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা আসেন। তাঁরা খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ওই রাস্তাগুলি দিয়ে যাতায়াত করলে বাইকের অবস্থাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ রাস্তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শহরের বাসিন্দা শ্রীকান্ত ঘোষ বলেন, উৎসবের মরশুমেও শহরের রাস্তা সংস্কার হল না। এটা লজ্জার। এবারও হয়তো অন্যান্য বছরের মতো ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় তাপ্পি দিয়ে পুরসভা দায় সারবে। কংক্রিট ব্লক বসানো রাস্তাগুলি বাদ দিয়ে সব জায়গা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, এখন পুরসভাও বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে। জেলার অন্যান্য পুরসভার চেয়ারম্যান বদল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্ধমানের চেয়ারম্যানকে বিজেপি সরায়নি। তারপরও রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না। শহরের মানুষের দুর্ভোগ কেউ বুঝছে না। বহু রাস্তায় ধুলোয় টেকা দায়। আবার বৃষ্টি হলে রাস্তা ডোবার চেহারা নিচ্ছে। কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। বাইক-সাইকেল নিয়ে বিপদে পড়তে হচ্ছে। শহরের বাসিন্দারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর আসার খবর পেয়ে কয়েকটি রাস্তা তড়িঘড়ি সংস্কার করা হয়। কিন্তু বাকি রাস্তাগুলির হাল বদলায়নি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, পুরসভা এখনও তৃণমূলের দখলে রয়েছে। বিজেপি সবে ক্ষমতায় এসেছে। তৃণমূলের জমানায় সব রাস্তা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছিল। সেকারণে বৃষ্টি হতেই রাস্তাগুলি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আগে মূল রাস্তাগুলি সংস্কার করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বাকি রাস্তা সংস্কার করা হবে। -নিজস্ব চিত্র