নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার সোনার সন্ধান! চা, কমলা, অর্কিডের পর পাহাড়ে মিলতে পারে স্বর্ণভাণ্ডার, সোনার খনি! গল্প নয়। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় নিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রক। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত রাজ্য সরকার। কালীপুজোর দিন রবিবার এই খবর দিয়ে রাজ্যে অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সম্ভাবনা সত্যি হলে, উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অবস্থা পালটে যাবে। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে। উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অঞ্চলগুলির মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় অন্যতম। নদী, ঝোরা, বন, জঙ্গল ঘেরা এই এলাকার কদর প্রাচীন কাল থেকেই। এখানে সিঙ্কোনা সহ বিভিন্ন ধরনের বনজ সম্পদ মেলে। সেই সঙ্গে চা বাগান থেকে কমলা বাগান, অর্কিড বাগানও ছড়িয়ে রয়েছে। এখানকার কমলা ও চায়ের সুনাম বিশ্বজোড়া। ইতিমধ্যে চা ও কমলা দু’টিই জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। ইদানীং কালিম্পংয়ে কফি চাষ হচ্ছে। এবার সংশ্লিষ্ট দুই পাহাড়ে মাটির নীচে মিলতে পারে ‘স্বর্ণ ভাণ্ডার’! কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রকের প্রাথমিক রিপোর্ট এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কালিম্পং ও দার্জিলিং পাহাড়ে স্বর্ণখনি মেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রক রিপোর্টে জানিয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। আমাকেও বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেছেন। যদিও কালিম্পং ও দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শুধু দার্জিলিং ও কালিম্পং নয়, ওই সম্ভাবনার তালিকায় রাজ্যের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলাও রয়েছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় রাজ্যে ওই পাঁচটি সহ মোট ন’টি জায়গায় সোনার খনি থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তাদের পরিভাষায় এলাকাগুলি বলা হয় ‘জি-৪’ স্তর। এই স্তরে খনি চিহ্নিত বা খননযোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় না। ভবিষ্যতে এলাকাগুলি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। এজন্য সম্ভাবনাময় ওই এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উপর নজর রাখছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জিএসআই)। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি নিয়ে আরও সার্ভে হবে। কোথায়, কতটা গভীরে, কী পরিমাণ সোনা মজুত রয়েছে, তা দেখা হবে। অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আয় বাড়বে। এতে উন্নয়নমূলক কাজ, সামাজিক প্রকল্পে গতি আসবে।



