সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: উত্তরবঙ্গের আলুতে অশনিসঙ্কেত! বাইরের রাজ্য আলুর চাহিদা নেই। জুলাই মাস থেকে অল্প অল্প করে আলু বাইরের রাজ্য যাওয়া শুরু হলেও বর্তমানে এক গাড়ি অর্থাৎ ১০ মেট্রিক টন আলুর দাম মাত্র ৫০-৫৫ হাজার টাকা। আর পুজোর মুখে আলুর এই দাম নিয়ে হতাশ কৃষক সহ ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, চাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমঘর থেকে এখনও আলুর প্যাকেট বের না করার চিন্তিত হিমঘর মালিকরাও। চাষিদের সূত্রেই জানা গিয়েছে, এবছর ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ আলু খেত থেকে তোলার সময় দাম ছিল ৭০-৮০ হাজার টাকা প্রতি গাড়ি। সেখানে সরকারিভাবে ৯০ হাজার টাকা গাড়ি প্রতি আলু কিনছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই দামে আলু বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন কৃষকরা। তাঁদের দাবি ছিল, বীজ সহ আলু চাষের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই দামে বিক্রি করলে লাভের মুখ দেখা যায় না। তাই লাভের আশায় হিমঘরে আলু মজুত করে রাখেন কৃষক সহ ব্যবসায়ীরা। সাধারণত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই হিমঘর থেকে আলু বের হতে শুরু করে। কিন্তু আলুর দাম একেবারে তোলানিতে থাকায় এবার আলুর প্যাকেট বের না করায় হিমঘর মালিকরা কিছুটা হলেও সমস্যার মুখে। ধূপগুড়ির একটি হিমঘরের মালিক বলেন, শ্রমিকরা এসে বসে থাকছেন। কিন্তু কেউ আলুর প্যাকেট বের করার জন্য আসছেন না। উত্তরবঙ্গে প্রায় ৮৭টি হিমঘর রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নভেম্বর মাসের মধ্যে হিমঘরগুলি থেকে আলু বের করতে হয়। আর এখন থেকে আলু বের না হওয়া শুরু হলে পরবর্তীতে খোলা বাজারে আলুর জোগান বাড়বে, তখন দাম কমে যাবে বলে দাবি করেছেন আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য জগদীশ রায়। উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, উত্তরবঙ্গের ৭০ শতাংশ আলু বাইরের রাজ্য পাঠাতে হয়। কিন্তু অসম, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ ভিনরাজ্যে এবার আলুর চাহিদা না থাকলে হয়তো টোম্যাটো, কাঁচালঙ্কা কিংবা অন্য সব্জির মতো আলুও ফেলে দিতে হবে। উত্তরবঙ্গ হিমঘর মালিক সংগঠনের অন্যতম সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যা দামে এখন তাতে কে আর হিমঘর থেকে আলু বের করতে চাইবে। আলুর দাম না বাড়লে কেউই হিমঘর থেকে আলুর প্যাকেট বের করতে চাইবেন না। পরবর্তীতে সমস্যায় পড়ব আমরা। আলু চাষি দেবাশিস রায়ের বক্তব্য, আলুর উৎপাদন খরচ সহ হিমঘরে রাখার একটা খরচ রয়েছে। দাম না বাড়লে বিরাট অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই অপেক্ষায় আছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।