নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হস্টেলের পড়ুয়াদের খাবারের জোগান দিতে স্কুলের জমিতেই আলু চাষ হয়েছে। ছয় কাঠা জমিতে জ্যোতি আলু চাষ করে সাফল্য পেল গোঘাট হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি আলু তোলার পর দেখা গেল, প্রায় ২১বস্তা ফলন হয়েছে। তার মধ্যে ১৫বস্তা আলু স্থানীয় হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগামী কয়েকমাস ধরে হিমঘর থেকে আলু বের করে তা রান্না করা হবে।
আলু চাষের কাজে শিক্ষকদের পাশাপাশি হস্টেলের আবাসিক ছাত্ররাও হাত লাগিয়েছিল। তাদের হাতেকলমে আলু চাষের পাঠও দিয়েছেন শিক্ষকরা। গোঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণকান্তি কোনার বলেন, তিনবছর ধরে স্কুলের জায়গাতেই আলু চাষ করা হচ্ছে। এবার ভালোই ফলন পাওয়া গিয়েছে। স্কুলের জমিতে উৎপাদিত আলু হস্টেলের ছাত্ররাই খাবে।
ওই হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি নারায়ণচন্দ্র পাঁজা বলেন, তিনবছর ধরে আলু চাষ হওয়ায় জমিটিও যথেষ্ট উর্বর হয়েছে। তবে এবার আলুর ফলন অন্য বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। স্কুলে আলু চাষ করায় হস্টেলের ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ টাকার কিছুটা সাশ্রয় হচ্ছে। তাতে ছাত্রদের পাতেই আরও বেশি পদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আমরা তাদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করছি। নিজেদের চাষ করা আলু খেয়ে পড়ুয়ারাও খুশি হচ্ছে।
গোঘাট হাইস্কুলের হস্টেলে এখন প্রায় ৬৩জন ছাত্র রয়েছে। তারা ভিনজেলার বাসিন্দা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিবছরই হস্টেলে পড়ুয়া ভর্তির আবেদন বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে ছাত্র পিছু খাবারের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেইসঙ্গে স্কুলের জমিতেই তাদের জন্য চাষবাস করা হচ্ছে। এখন জমি থেকে আলু তোলা হয়েছে। এবার সেখানে নানাধরনের শাকসব্জি চাষ করা হবে। সেগুলিও পড়ুয়াদের পাতেই পড়বে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্ররাই বিভিন্ন সময় আলু গাছের পরিচর্যা করেছে। ফলে তারা হাতেকলমে চাষের পদ্ধতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছে। তবে আলাদা করে শ্রমিকও রাখা হয়। কয়েকদিন আগে ছাত্ররা আলু তোলার কাজেও হাত লাগায়। কয়েকবস্তা আলু খাওয়ার জন্য রেখে বাকিটা হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোঘাট হাইস্কুলের জমিতে আলু চাষ। -নিজস্ব চিত্র