


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পটাশপুর বিধানসভায় জেতার পরই উত্তম বারিকের প্রভাব পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে কয়েক গুণ বেড়েছে। অন্য নেতাদের টক্কর দিয়ে তিনি হাইকমান্ডের অনেক কাছের লোক হয়ে গিয়েছেন। কোনও জাদুবলে এটা হয়নি। পাঁচ বছরে পটাশপুরে তাঁর জনসংযোগ ও বিধায়ক ফান্ডের টাকা সময়মতো খরচ করতে পারার দক্ষতা তাঁকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই জেলায় বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ খরচে পটাশপুর বিধানসভার সবার শীর্ষে। ২০২১-’২৬সাল পর্যন্ত প্রত্যেক বিধানসভা এলাকা উন্নয়নে(বিইইউপি ফান্ড) ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পটাশপুরে ৩কোটি ২৯লক্ষ চার হাজার টাকার কাজ প্রায় শেষ। অধিকাংশ স্কিমের ইউসি জমা পড়েছে। মোট ১৫৬টি কাজের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন বিধায়ক উত্তম। ১৫৬টি স্কিমেরই কাজ প্রায় শেষ।
২০১১ ও ২০১৬সালে পরপর দু’বার পটাশপুর বিধানসভা থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের জ্যোতির্ময় কর। পেশায় অধ্যাপক, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, তুখোড় বক্তা জ্যোতির্ময়বাবু বেশ জনপ্রিয়। ২০২১সালে তাঁর বদলে পটাশপুরে প্রার্থী হন উত্তম। মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উত্তম ওই আসনে জয়ী হন। জনসংযোগ ও পারফরম্যান্সে জোর দেওয়ার চেষ্টা চালান। তার জেরেই ২০২৪সালে লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় ১৬টির মধ্যে শুধুমাত্র পটাশপুর থেকে বেশি লিড আদায় করে তৃণমূল। এবার পটাশপুরে উত্তমের জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষ পণ্ডা। উন্নয়নমূলক কাজকে হাতিয়ার করেই প্রচারে শান দিচ্ছেন পীযূষ। অপরদিকে, বিজেপির প্রার্থী প্রাক্তন বুথ সভাপতি তপন মাইতি। দু’জনেই পোড় খাওয়া নেতা। প্রচারেও টক্কর চলছে। তবে, উত্তমের আবাদ করা জমিতে পীযূষের লড়াইকে খানিকটা সহজ করে তুলেছে। উন্নয়ন নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা চলছেই। বিজেপি যুবমোর্চার পটাশপুর-১ ব্লক সভাপতি দেবম পাল বলেন, পটাশপুরে ঠিকমতো উন্নয়ন হয়নি। এগরা-বাজকুল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেহাল। বর্ষার শুরু থেকেই কেলেঘাই নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ থাকে না। রাত জাগতে হয়। এনিয়ে কোনও দিশা দেখাতে পারেনি তৃণমূল সরকার। এবার পটাশপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত।
নৈপুর বাজারের বসন্ত বিশ্বাস, দিবাকর জানা বলেন, গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে। বাড়ি বাড়ি ঢালাই রাস্তা আগে কখনো ভাবা যেত না। বিধায়ক এলাকা তহবিল থেকে নৈপুর বাজারে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এরআগে পটাশপুর বাজারেও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
মঙ্গলামাড়ো বাজারে চাল বিক্রি করতে এসেছিলেন বড়হাট গ্রামের প্রেমচাঁদ ঘড়া, কার্তিক ঘড়া প্রমুখ। তাঁরা বলেন, আমরা এখনও মাটির বাড়িতে বসবাস করছি। আবাস যোজনার বাড়ি থেকে বঞ্চিত। গোনাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপর বিরাট এলাকার মানুষজন নির্ভর করেন। কিন্তু, এখানকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র শুধু রেফার করা হয়। গোনাড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফেরানো জরুরি। কারণ, এখান থেকে তমলুক কিংবা এগরা অনেক দূর। গরিব মানুষদের আসা যাওয়া করতে অনেক অসুবিধা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পটাশপুর বিধানসভা নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মৃণালকান্তি দাস বলেন, আমরা পটাশপুর থেকে এবারও জয় নিয়ে আশাবাদী। গত ১৫বছর এখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম হয়েছে। বাড়ি বাড়ি পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ইভিএমে এর প্রভাব পড়বে। প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েও আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি।