নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শুক্রবার বিকেলে লাটাগুড়ির সেই শিশুর দেহের ময়নাতদন্ত হল। পরিবারের দাবি মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গে ৫৪ দিনের ওই শিশুর ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন শিশুর বাবা কৌশিক অধিকারী। ভিডিওগ্রাফি করা হয় গোটা প্রক্রিয়া। ময়নাতদন্ত ঘিরে নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য মর্গ চত্বরে মোতায়েন ছিল পুলিস। এদিকে, এদিনও শিশুটির বাবার দাবি, তাঁর সন্তানকে যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাতেই কোনও গোলমাল ছিল বলে মনে করছেন তিনি। এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন শিশুটির বাবা। তাঁর দাবি, একই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন নেওয়া আরও এক শিশু অসুস্থ বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। ভ্যাকসিনে কোনও গোলমাল না থাকলে বৃহস্পতিবার কেন উত্তর ঝাড় মাটিয়ালির ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ রাখা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৃত শিশুর বাবা।
এদিকে, এদিন সকালেই মৃত শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষি মজুমদার। তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেখানে জাল ওষুধের প্রসঙ্গ উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রেও সন্দেহের যথেষ্টই অবকাশ রয়েছে। রাজ্যে যেভাবে ওষুধ, ইঞ্জেকশন, স্যালাইন জাল হচ্ছে, কিছুই আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। উপযুক্ত তদন্ত হওয়া দরকার।
ফরেন্সিক তদন্তের দাবিতে এদিন সকাল থেকে অনড় ছিল শিশুর পরিবার। পুলিসের তরফে তাদের বোঝানো হয়, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা সংরক্ষণ ফরেন্সিক তদন্তেরই অংশ। যদিও পুলিসের মুখের কথা মানতে নারাজ ছিলেন মৃত শিশুর পরিজনরা। ফরেন্সিক তদন্ত হবে কি না, তা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানোর দাবি জানান তাঁরা। এনিয়ে পুলিস ও মৃত শিশুর পরিজনদের মধ্যে একসময় বচসা বেঁধে যায়। যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপতের সঙ্গে দেখা করে তাঁর দাবি জানান মৃত শিশুর বাবা। সেখান থেকে ফরেন্সিক তদন্তের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আশ্বাস পাওয়ার পরই সন্তানের ময়নাতদন্তে রাজি হন তিনি। পরে পুলিস সুপার বলেন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ময়নাতদন্ত হয়েছে।
বেলা ৩টে নাগাদ সুপার স্পেশালিটি থেকে দেহ নিয়ে আসা হয় সদর হাসপাতালের মর্গে। এদিকে, গোটা দিনই শিশুর পরিবারের সঙ্গে ছিল সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য সলিল আচার্য বলেন, পরিবারের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। তাদের পাশে আছি আমরা। কেন শিশুটির মৃত্যু হল, তা জানাতেই হবে। যারা অভিযুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার বলেন, শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হবে। তাছাড়া তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গড়া হয়েছে। ওই ভ্যাকসিন নিয়ে আর কোনও শিশু অসুস্থ হয়নি বলে দাবি তাঁর।