নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাঁকড়া-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত শ্বেতা খান ওরফে ফুলটুসি ও তার ছেলে আরিয়ানকে পুলিসি হেফাজত শেষে ফের জেল হেফাজতে হয়েছে। এদিকে, মা-ছেলের কীর্তিতে এখনও ফুঁসছেন বাঁকড়ার ফকিরপাড়ার বাসিন্দারা। এই মামলায় জামিন পেয়ে মা-ছেলে যাতে কোনওভাবেই আর এলাকায় ঢুকতে না পারে, তার জন্য পাড়ায় পাড়ায় পোস্টার সাঁটাতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার রাতেই বাঁকড়ার বেশ কয়েকটি জায়গায় এ সংক্রান্ত পোস্টার নজরে এসেছে।
পান্না গাজি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ফুলটুসি ও তার ছেলের জঘন্য অপরাধের জন্য গোটা এলাকাকে লজ্জিত হতে হয়েছে। ওদের কোনওভাবেই এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাই পোস্টার দিয়ে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছ।’ স্থানীয়দের বক্তব্য, এই ধরনের কাজকর্ম এলাকায় চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাবে। শুক্রবার রাত থেকে বাঁকড়া বাজার, ফকিরপাড়া ও পেয়াদাপাড়ায় ফুলটুসি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে পোস্টার সাঁটিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। ফুলটুসির ছবি সহ পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘‹নারী বিদ্বেষী, নারী পাচারকারী, আসামি ফুলটুসি ও তার ছেলে আরিয়ান এলাকা থেকে দূর হটো।’
সোদপুরের এক তরুণীকে বাঁকড়ার ফ্ল্যাটে আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বেতা খান ও তার ছেলে আরিয়ানকে। নির্যাতিতাকে জোর করে বার ডান্সারের কাজ করানো, এমনকী সেক্স র্যাকেটে নামানোর চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ। গত শনিবার অভিযুক্ত শ্বেতাকে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল পুলিস। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘অভিযুক্তের ভোটার কার্ড, আধার, প্যান সম্পর্কিত কিছু জিনিস যাচাই করে দেখার ছিল। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।’ তাদের বিরুদ্ধে এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ নিয়ে ওই পুলিসকর্তা বলেন, ‘স্থানীয়দের ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও ঘটনায় অভিযুক্ত যদি জামিন পেয়ে নিজের বাড়িতে থাকতে চায়, তা আটকানো যায় না। এটা আইনবিরুদ্ধ।’ নিজস্ব চিত্র