সংবাদদাতা, কাটোয়া: পরিবর্তন যাত্রার আগেই কাটোয়ায় বিজেপির দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে। একাধিক জায়গায় বিজেপির জেলা নেতৃত্বের বদল চেয়ে পোস্টার পড়েছে। জেলার বহু পদাধিকারীকে সরিয়ে সংগঠন রক্ষার ডাক দেওয়া হয়েছে সেখানে। শুক্রবার এমনসব পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে যায় গোটা শহর। এমনকি বিজেপির পার্টি অফিসের দেওয়ালেও পোস্টার সাঁটানো হয়। বেলার দিকে পোস্টারগুলি আবার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। ভোটের ঠিক মুখে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় তোলাপাড়। বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
যদিও পুরো ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত দেখছে বিজেপি। দলের সাংগঠনিক কাটোয়া জেলা কমিটির নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভোটের আগে তৃণমূল এসব নোংরা রাজনীতি করছে৷ ওদের হার নিশ্চিত জেনেই এসব করছে৷’ কাটোয়া শহরের ঘোষেশ্বর চৌমাথা, শহরের নগর পার্টি অফিসের দেওয়ালে ও পাঁচঘড়ার মোড় সহ একাধিক জায়গায় পোস্টার সাঁটানো হয়েছে৷ পোস্টারগুলিতে লেখা, ‘২০২১ এর বিধানসভা ভোটের লজ্জাজনক হারের পর যে সমস্ত বিজেপি নেতারা কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে শাসক দলের হাতে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল৷ এবার ছাব্বিশের বিধানসভা তাঁদের আমরা বিজেপির রাজনৈতিক মঞ্চে দেখতে চাই না। অনিল দত্ত, প্রফেসার দয়াময় বিষুই, প্রাক্তন জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ, সীমা ভট্টাচার্য, অশোক রায়, পূর্ণেন্দু দত্ত এই সকল অকর্মন্য ও বিশ্বাসঘাতক নেতাদের হাত থেকে আমদের কাটোয়া বিধানসভার বিজেপি সংগঠনকে রক্ষা করতে হবে।’ জানা গিয়েছে, সীমা ভট্টাচার্য ও অনিল দত্ত জেলা কমিটির পদাধিকারী। এছাড়া কৃষ্ণ ঘোষ প্রাক্তন সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সভাপতি পদে ছিলেন৷ বর্তমানে তিনি রাজ্য কমিটিতে রয়েছেন৷ এছাড়া সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার মিডিয়া ইনচার্জ পদে রয়েছেন অশোক রায়৷ পূর্ণেন্দু দত্ত ও প্রফেসর দয়াময় বিষুই দু’ জনেও সংঘ পরিবারের সদস্য। এঁদের প্রত্যেককেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেওয়া হয়েছে৷ তাছাড়া প্রত্যেককেই সরিয়ে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে পোস্টারে৷ কে বা কারা এমন পোস্টার মারল, তা নিয়েই ধন্দ তৈরি হয়েছে সব মহলে। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, সাংগঠনিক কাটোয়া জেলায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল চরমে। কয়েকদিন আগেই বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি ও বুথ সভাপতিকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দলেরই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে৷ দলীয় কর্মসূচিতেও দলের কোন্দল চরমে দেখা গিয়েছিল৷ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, ‘বিজেপির অনেক গোষ্ঠী। তাদের কোনও একটা গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে৷ আমাদের তৃণমূলের কেউই পোস্টার কাণ্ডে জড়িত নন।’
পোস্টার কাণ্ডে সীমা ভট্টাচার্য মুখ খুললেও বিজেপি নেতা অনিল দত্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি৷ এদিন তিনি বলেন, আমরা এখন পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি৷ এসব কে করেছে, আমরা কিছুই জানি না৷
তাই এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারব না৷’ মিডিয়া ইনচার্জ অশোক রায়ও একই কথা বলেন। বিজেপির দলীয় সূত্রে খবর, কাটোয়া বিধানসভায় বিজেপির টিকিট পাওয়া নিয়ে এখন বেশ কয়েকজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চরমে উঠেছে৷ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দফায় দফায় বেশ কয়েকজন নেতা যাতায়াত বাড়িয়েছেন৷ সেটা আবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে৷ পালটা কেউ কেউ এবার ভিন রাজ্যের বিজেপির মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে পোস্ট করছেন৷ বিজেপির এক নেতা এদিন বলেন, দলে টিকিট পাওয়া নিয়ে এখন চরম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে৷ তবে এর সঙ্গে পোস্টার সাঁটানোর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা দলীয় নেতৃত্বরাই দেখবে।-নিজস্ব চিত্র