নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাড়োয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামতেই চাইছে না। একের পর এক পোস্টার নিয়ে দলের ভিতরের কাজিয়া ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। ক’দিন আগে হাড়োয়ার তৃণমূলের বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার পড়ে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার বিকেলে হাড়োয়ার তৃণমূল নেতা তথা দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের নামে পড়ল একাধিক পোস্টার। ভেড়ি থেকে ঘুষ খাওয়া সহ একাধিক বিষয়ে পোস্টার পড়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে সরাসরি বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের দিকেই আঙুল তুলছেন কর্মাধ্যক্ষ। তা নিয়েই শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা।
জানা গিয়েছে, হাড়োয়া বিধানসভার মধ্যে রয়েছে দেগঙ্গা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েতের মধ্যে হাসিয়া ও দোগাছিয়া এলাকার ভেরি নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। হাসিয়াতে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জমি মালিকরা। অন্যদিকে দোগাছিয়াতে বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন জমি মালিকরা। ভেড়ি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই অশান্তি চলছে। মূলত, জমি মালিকদের সঙ্গে বিবাদ চলছে লিজ নেওয়া নিয়ে। ক’দিন আগে বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে এই ইস্যুতে।
মঙ্গলবার দেগঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার পড়ল কর্মাধ্যক্ষের নামে। তাতে লেখা– ভেরির টাকা নিয়ে দুর্নীতি করছেন কর্মাধ্যক্ষ। বেআইনিভাবে মাটি কেটে পাচার থেকে শুরু করে ক্ষমতা কায়েম করে পাট্টা নিয়ে বেনিয়মও করছেন বলে পোস্টারে দাবি করা হয়েছে। এনিয়ে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন, দু’দিন আগে হাড়োয়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে। এবার উনি চক্রান্ত করে আমার নামে পোস্টার দিয়েছেন। কারণ, দোগাছিয়াতে আমি ভেড়ির মালিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছি। আর সেই আন্দোলনকে ভেস্তে দিতেই বিধায়কের এটা চক্রান্ত। এনিয়ে থানা ও দলকে আমি অভিযোগ জানিয়েছি। তবে এই প্রসঙ্গে হাড়োয়ার তৃণমূল বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামকে ফোন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এনিয়ে পরে কথা বলব। -নিজস্ব চিত্র