নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মোড়ে পোস্টার যুদ্ধ! দিনকয়েক আগে পটালি লেনের কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোত্সব সমিতির একটি হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছিল শহরের রাস্তা। সেখানে লেখা ‘এবার পূজোয় (এভাবেই পুজো বানান লেখা হয়েছে হোর্ডিংয়ে) বামবধ’। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মোড়েও এমন একটি হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালে দেখা গেল, ঠিক তার পাশে আরও একটি সমান সাইজের হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে। তাতে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তার মর্মার্থ হল, ‘বামবধ’ হিটলারও বলেছিল। বাকিটা ইতিহাস। সাদা হোর্ডিংয়ে হিটলারের নাম না নিয়ে সেই জায়গায় তার একটি প্রতীকী ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সেই হোর্ডিং কারা দিয়েছে, তা নিয়ে কিছু লেখা নেই।
তবে সামাজিক মাধ্যমে পাশাপাশি দু’টি হোর্ডিংয়ের ছবি পোস্ট করেন সিপিএম নেতারা। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও একই পোস্ট করেছেন। হোর্ডিংয়ে কেন হিটলারের প্রতীকী ছবি? এখানে কোন ইতিহাসের কথাই বা বলা হচ্ছে? ইতিহাস বলছে, বামপন্থার তীব্র বিরোধী অ্যাডলফ হিটলার ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন। বার্লিনে মাটির নীচের বাঙ্কার থেকে হিটলারের দেহ পাওয়া যায়। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলছেন, ‘আমাদের দপ্তরের সামনে এই পোস্টার পড়েছে। পার্টি অফিসে আসতে গিয়ে দেখলাম। তাই ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলাম। অনেকে বলছেন, যাদের উদ্দেশে লেখা, তারা কি আদৌ এসব বুঝতে পারবে!’ কারা এই হোর্ডিং দিল? কলতান বলছেন, ‘কে বা কারা এই হোর্ডিং বসিয়েছে, জানি না। কারও নাম লেখা নেই। তবে হিটলারের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, সেটা আমরা জানি।’ পুজো কমিটির ওই হোর্ডিং নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। এবার পালটা হোর্ডিংয়ে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, শনিবার কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌবাগায় সিপিএমের পার্টি অফিসে কেউ তালা দিয়ে যায় বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য অপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন খবর দেন, কেউ পার্টি অফিসে আমাদের তালার উপর আরও একটি তালা দিয়েছে। আমরা আনন্দপুর থানায় যাই। পুলিশের উপস্থিতিতে আমরা সেই তালা ভাঙি। তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছি পুলিশকে।’