নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সিভিক ভলান্টিয়ারদের কীর্তিকলাপের তালিকা যেন থামতেই চাইছে না। এবার কাকদ্বীপে নিজেকে তৃণমূলের ব্লক যুব সভাপতি পরিচয় দিয়ে ২১ জুলাইয়ের প্রচারের পোস্টার সেঁটেছিলেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় সেই পোস্টার দেখা গিয়েছে। বাপ্পা দাস নামের ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কাকদ্বীপে। তিনি নিজেকে স্বঘোষিত পদাধিকারী বলে দাবি করলেও, দল যে তাঁর নাম ঘোষণা করেনি, তা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে। তাহলে কেন বা কার পরামর্শে বাপ্পা নিজেকে ব্লকের যুব সভাপতি হিসেবে দাবি করে এই কাজ করলেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।
মথুরাপুরের সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বাপি হালদার বলেন, দলের পক্ষ থেকে কাকদ্বীপ ব্লকে যুব সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি। কে বা কারা কী করেছে, তা আমাদের জানা নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় লোকজন তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই সিভিক ভলান্টিয়ারকে তৃণমূলের একাধিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে বাপ্পার সাফ কথা, বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে যুব সভাপতি হিসেবেই আমন্ত্রণ করা হয়। সাংসদ কেন এখন ঢোঁক গিলছেন, তা বলতে পারব না।
রাজনৈতিক বিতর্ক বাদ দিয়েও এই সিভিক ভলান্টিয়ারের আরও অনেক কীর্তি সামনে এসেছে। তিনি একইসঙ্গে ঠিকাদারির কাজও করেন। পুলিস সূত্রে খবর, কাকদ্বীপের দু’টি ক্লাবে এই সিভিক ভলান্টিয়ার জুয়ার আসর বসান। এছাড়াও বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করেন বাপ্পা। এমনই এক আক্রান্ত ব্যক্তি গত জুন মাসে হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বাপ্পা তাঁকে নানাভাবে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকী প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে ওই ব্যক্তি দিনকয়েক আগে কাকদ্বীপ থানায় ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে বাপ্পা জানিয়েছেন, কে অভিযোগ করেছে, জানা নেই। সব অভিযোগই মিথ্যা।
এদিকে, কাকদ্বীপের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাপ্পা দাসের নামে কাকদ্বীপ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।