Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাখিবন্ধন উৎসবে বিপুল ক্ষতি ডাকবিভাগের, নতুন প্রযুক্তিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন নিচুতলার কর্মীরা

ভারতীয় ডাকবিভাগের পরিষেবা আরও উন্নত করতে অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি ২.০ চালু হয়েছে। কিন্তু, এর ফলে গোটা সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রতিটি অফিসে পরিষেবা লাটে উঠেছে।

রাখিবন্ধন উৎসবে বিপুল ক্ষতি ডাকবিভাগের, নতুন প্রযুক্তিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন নিচুতলার কর্মীরা
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: ভারতীয় ডাকবিভাগের পরিষেবা আরও উন্নত করতে অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি ২.০ চালু হয়েছে। কিন্তু, এর ফলে গোটা সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রতিটি অফিসে পরিষেবা লাটে উঠেছে। সার্ভারের গণ্ডগোলের জেরে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে না পেরে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামের ডাকঘরগুলির নিচুতলার কর্মীরাও বেশ বিপাকে পড়েছেন। গ্রাম-গঞ্জের অনেক জায়গায় উপভোক্তাদের পরিষেবা দিতে না পেরে অবশেষে ডাকঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে নিস্তার পেয়েছেন কর্মীরা। এহেন পরিস্থিতিতে এই ‘আইটি ২.০’ চালু করার পিছনে ষড়যন্ত্র দেখছেন ডাকঘরের নিচুতলার কর্মীরা। কারণ, প্রতিবছর দেশজুড়ে এই রাখীবন্ধন উৎসবে ডাকবিভাগের কয়েক কোটি টাকা উপার্জন হয়। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দাদা ও ভাইদের রাখী পাঠান দিদি-বোনেরা। অনেকেই স্পিড পোস্ট, অর্ডিনারি পোস্ট বা পার্সেল বুকিং করে ভাইবোনদের উপহার পাঠান। ফলে ডাকবিভাগের বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন হয়। কিন্তু, নতুন প্রযুক্তি চালুর ফলে এবার তা হল না। স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের ঠিক এক সপ্তাহ আগে নতুন এই প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

ডাকবিভাগের বিরুদ্ধে একটি বড় ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন কর্মীরাই। তাঁদের দাবি, রাখীবন্ধন উৎসব ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে, তা সকলেরই জানা। তাহলে কেন ঠিক এক সপ্তাহ আগে নতুন প্রযুক্তি চালু করা হল? এটা বেসরকারি ক্যুরিয়ার কোম্পানিগুলির আর্থিক মুনাফা করে দেওয়ার ব্যবস্থা নয় তো? পোস্ট অফিসের নিচুতলার কর্মীদের বিভিন্ন ইউনিয়নে এই বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও চলছে এসব মেসেজ চালাচালি। সেখানে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ডাকবিভাগের খুব উঁচুতলার কোনও পদস্থ আধিকারিক এই ষড়যন্ত্রের পিছনে থাকতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ অনেকেই আগের এক কর্মকর্তার অবসরের দু’দিনের মধ্যে নতুন ক্যুরিয়ার কোম্পানিতে যোগদানের প্রসঙ্গও তুলে আনছেন।
আবার অনেকে বলছেন, নতুন প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিলই। সেই জন্য অধিকাংশ জায়গায় বিভাগের আধিকারিক এবং নিচুতলার কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়। তারপরেও কীভাবে হয়রানি হতে হচ্ছে? সবথেকে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কাউন্টারে থাকা কর্মীরা। দেশজুড়ে অধিকাংশ পোস্ট অফিসে রাখীর বুকিং করতে পারেননি তাঁরা।
গত সোমবার থেকেই এরাজ্যের প্রতিটি জেলার অধিকাংশ পোস্ট অফিস এবং সাব পোস্ট অফিসে কোনও পরিষেবা মিলছে না। ফলে, পোস্ট অফিসগুলিতে আগে যেটুকু ডিজিটাল কাজকর্ম হচ্ছিল, সেটাও লাটে উঠেছে। জেলার হেড পোস্ট অফিসগুলিতে কিছুটা কাজ করার চেষ্টা হলেও অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি ২.০ নতুন প্রযুক্তিতে সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়। সেভিংস অ্যাকাউন্টে লেনদেন থেকে শুরু করে পার্সেল বুকিং বা স্পিড পোস্টের মতো অতি সাধারণ ডাক পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। এনিয়ে সর্বোচ্চস্তরে তদন্ত হওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করছেন।
পোস্টঅফিসের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভিন্ন ইউনিয়নের কর্মচারীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সামান্য পরিষেবা দিতে গিয়ে আমাদের কালঘাম ছুটেছে। রাখীবন্ধনে পার্সেল বুকিং এবং স্পেশাল কভার দেওয়া বিশেষ খামের ব্যবস্থা করে সেগুলি দ্রুত ডেলিভারি দেওয়া হয়। এবার সেসব কিছুই হয়নি। আগামী সপ্তাহে কাজ সুষ্ঠুভাবে হবে কি না, কেউ জানে না। এভাবে চলতে থাকলে ক্রমশ পোস্ট অফিসের উপর থেকে মানুষের আস্থা কমবে। ওই বিরোধী কর্মকর্তাকে খুঁজে ডাকবিভাগ থেকে বের করে দেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ