নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন নেই। প্রকৃত গ্রাহকদের নজরে না থাকা অ্যাকাউন্টগুলিই ব্যাঙ্ক বা ডাকবিভাগের ভাষায় ‘সাইলেন্ট অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত। জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে এমন কয়েক কোটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলিকেই সাইবার প্রতারকরা নিজেদের সুবিধা মতো ব্যবহার করছে। বিভিন্ন কারসাজি করে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন। যার জেরে বিপাকে পড়ছেন সাইলেন্ট অ্যাকাউন্টের প্রকৃত গ্রাহকরা। এবার সেইসব নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টকেই সক্রিয় করতে ময়দানে নামছে ডাকবিভাগ।
ডাকবিভাগে কতগুলি নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট আছে? এবিষয়ে পরিসংখ্যান দেখলে চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। জানা গিয়েছে, ডাকবিভাগের আসানসোল পোস্টাল ডিপার্টমেন্টেই সাইলেন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ২৩টি। বিভিন্ন সময়ে খোলা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে দীর্ঘদিন কোনও লেনদেন হয়নি। এই বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্টকে সক্রিয় করতে প্রচার অভিযানে নামছে ডাকবিভাগের আসানসোল ডিভিশন। বিভিন্ন সাব পোস্ট অফিস ও ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। গ্রাহকদের কাছে অনুরোধ করা হবে, তাঁরা যেন নিজেদের আধার ও প্যান কার্ডের জেরক্স কপি জমা করে অ্যাকাউন্টগুলিকে সক্রিয় করে তোলেন। পাশাপাশি, গ্রাহক চাইলে পোস্টঅফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন, তাঁর নামে কোনও নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট রয়েছে কি না। শুধু এই অ্যাকাউন্টগুলিই নয়, পোস্টাল লাইফ ইনসিওরেন্সের বহু অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০৪১টি অ্যাকাউন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলিতে প্রিমিয়াম জমা হচ্ছে না। অথচ সেইসব অ্যাকাউন্টে বেশকিছু টাকা জমা হয়ে পড়ে রয়েছে। যা গ্রাহকরা ব্যবহারও করতে পারছেন না। সেইসব গ্রাহককে আসানসোল ডিভিশনাল পোস্ট অফিস থেকে ফোন করা হচ্ছে। তাঁদের বাড়িতে আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পোস্টের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কত টাকা জমা দিলে লাইফ ইনসিওরেন্স পলিসি ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে? সেই টাকা তুলে নিতে চাইলে কী করতে হবে? এই সমস্ত বিষয়ে সমস্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ডাকবিভাগ কোনওরকম নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট রাখতে চাইছে না। সেই ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাই গ্রামীণ এলাকার রুরাল পোস্টাল লাইফ ইনসিওরেন্সগুলিকে সক্রিয় করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পোস্ট অংশুমান বলেন, সাইলেন্ট অ্যাকাউন্ট গ্রাহকের পক্ষেই বিপজ্জনক। আমরা সেগুলি সক্রিয় করতে চাইছি। শিল্পাঞ্চলে বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। তাঁদের জীবন বিমা থাকা প্রয়োজন। আমাদের জীবন বিমায় সবচেয়ে কম প্রিমিয়ামে সবথেকে বেশি লাইফ কভারেজ ও ম্যাচুরিটি পাওয়া যায়। প্রচারের অভাবে অনেকেই তা করান না। কিংবা প্রিমিয়াম না দেওয়ায় সেগুলি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সেগুলি চালু করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।