রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বছরভর নানা কর্মসূচি থাকে রাজনৈতিক দলগুলির। মিছিল, পথসভা, জনসভা, ঘরোরা বৈঠক, ভিডিও কনফারেন্স। এভাবেই চলে তাদের জনসংযোগ। সমর্থন-বিরোধিতা ঝালিয়ে নেওয়ার পর্ব। কিন্তু এমনটা আগে কখনও দেখা যায়নি! আম জনতাকে ফোনে কার্যত ফরমান দেওয়া হচ্ছে, বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পোস্ট’ করতে হবে! এহেন কাণ্ডকারখানা দেখে তৃণমূল বলছে, ‘এ তো একেবারে গেরুয়া ফরমান!’ ঘটনাটি ঠিক কী?‘ ৩৮৩’ নম্বর থেকে ফোন যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন মানুষের কাছে। ফোনে ট্রু কলার থাকলে সেখানে নাম দেখাচ্ছে ‘অফিস’। এরকম একটি কল রেকর্ডিং থেকে জানা যাচ্ছে, জনৈক ব্যক্তি ফোন করে বলছেন, ‘নমস্কার! আমি বিজেপির রাজ্য অফিস থেকে বলছি।’ এরপর রাজ্যে এখন বিজেপির কী কর্মসূচি চলছে, তার বিবরণ দিচ্ছেন টেলিকলার। বলা হচ্ছে, ‘১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে তিন ধরনের জনসম্পর্ক অভিযান চলছে। ১.ঘরে ঘরে সম্পর্ক। ২.কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে যাঁরা সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক। ৩. ছোটো বৈঠক।’
এরপরই ‘অনুরোধ’ করে বলা হচ্ছে, ‘এই কর্মসূচিগুলি প্রতি বুথে সম্পন্ন করুন। তার রিপোর্টিং এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে আপলোড করুন।’ এখানেই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, কোনো দল রাজনৈতিক কর্মসূচি নিলে সেখানে সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের জন্য আবেদেন বা অনুরোধ করতে পারে। তার জন্য পোস্টার, হোর্ডিং দেওয়া হয়। কিন্তু সেটা ফোন করে কেন বলতে হচ্ছে? তারপর আবার বলা হচ্ছে, কর্মসূচিতে হাজির হয়ে তার তথ্য ও ছবি তুলে ধরতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়! এভাবে কি কোনো দল সাধারণ মানুষকে বলতে পারে? এ বিষয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ পার্টি কর্মীর কাছে যেতে পারে। আম জনতার কাছে তা কেন যাবে? এখানে যে ফোন কলের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। বিষয়টি অবাক লাগছে।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অভিযান চলছে। মানুষের মতামত সংগ্রহ করছি। আমরাই জনগণের সরকার তৈরি করব।’ পালটা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া শাখার ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাধারণ মানুষ কোন দুঃখে একটি রাজনৈতিক দলের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করবেন? রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচার করবেন তো কর্মী-সমর্থকরা। তাহলে কি বিজেপি কর্মীদের আঙুলে ব্যথা নাকি ইন্টারনেট শেষ হয়ে গিয়েছে?’ তাঁর আরও কটাক্ষ, ‘কেন্দ্রীয় বিজেপি হয়তো রাজ্য বিজেপির নেতাদের ১০০টা করে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সেখানে রাজ্যের কোনো নেতা হয়তো পাঁচটি বাড়িতে গিয়েছেন। তাই এখানকার নেতাদের উপর ভরসা না রেখে আম জনতাকেই দায়িত্ব দিচ্ছেন দিল্লির বিজেপি নেতারা!’