নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে পোস্ট অফিসের কর্মীদেরও পলিসি করার টার্গেট দিল ডাক বিভাগ। প্রতিটি ডাকঘরকে আলাদা আলাদা টার্গেট দেওয়া হয়েছে। সেই মতো আধিকারিকরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ১৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য বলা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, পোস্ট অফিসগুলিতে যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী নেই। তারপর একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন একাধিক বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন সুযোগ দিয়ে বিমার স্কিম চালু করেছে। পোস্ট অফিস সাড়া জাগানো তেমন বিমা আনেনি। তাছাড়া এখন আর আগের মতো পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার মতো আগ্রহ গ্রাহকদের নেই। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর আগে একাধিক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। পোস্টাল লাইফ ইন্সুরেন্স এবং রুরাল পোস্টাল লাইফ ইন্সুরেন্স করার জন্য বলা হয়েছে। এলআইসির মতো সংস্থাকে পলিসি করার জন্য বেগ পেতে হচ্ছে।
ডাক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য জোর দিতে বলা হয়েছিল। সেই উদ্যোগও তেমন সাফল্য পায়নি। নতুন করে পোস্টাল এজেন্ট বহুদিন নিয়োগ করা হয়নি। সঞ্চয়ও সেভাবে বাড়েনি। এক পোস্টাল এজেন্ট বলেন, ডাক বিভাগ কমিশন বাড়ায়নি। অনেকে কাজ করতে উৎসাহী নয়। কমিশন একটু বাড়ানো হলে অনেকেই কাজে উৎসাহ দেখাতেন। পোস্ট অফিসের আধিকারিকদের কাজের চাপ আগের থেকে অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। অথচ প্রতিটি ডাকবিভাগের জন্য টার্গেট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যেমন আসানসোল-১ সাবডিভিশনের জন্য ২৫০, দুর্গাপুর মহকুমার জন্য ২৫০, রানিগঞ্জের জন্য ৫০জনকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বিমা করানোর জন্য বলা হয়েছে। এভাবে রাজ্যের প্রতিটি পোস্ট অফিসকেই টাগের্ট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ কর্তাদের মনজয় করতে আধিকারিকরা সেই কাজে জোর দিয়েছেন। কীভাবে পলিসির টার্গেট পূরণ হবে, তা নিয়ে আধিকারিকরা চিন্তায় রয়েছেন। আধিকারিকদের দাবি, যেসব জায়গায় টার্গেট কম দেওয়া হয়েছে, সেখানে সমস্যা নেই। কিন্তু যেখানে টার্গেট বেশি রয়েছে, সেখানে তা পূরণ হওয়া বেশ কঠিন কাজ। পোস্ট অফিসের অধিকাংশ গ্রাহক প্রবীণ। তাঁদের আগে থেকেই বিমা রয়েছে। নতুন করে তাঁদের বিমা করাতে বেগ পেতে হচ্ছে। নতুন গ্রাহক খুব বেশি বাড়েনি।