Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আট-দশ বছর ধরে একই থানায় পোস্টিং ‘ডাক মাস্টার’দের! তোলাবাজিতে হাওড়ায় ফের মাথাচাড়া অবৈধ কারবারের

কেউ একই থানায় রয়েছেন আট বছর। কারও আবার এক জায়গায় কেটে গিয়েছে ১০ বছরের বেশি। কনস্টেবল থেকে এএসআই—হাওড়া সিটি পুলিশের একাধিক থানায় বছরের পর বছর একই জায়গায় বহাল পুলিশকর্মীর সংখ্যা কম নয়।

আট-দশ বছর ধরে একই থানায় পোস্টিং ‘ডাক মাস্টার’দের! তোলাবাজিতে হাওড়ায় ফের মাথাচাড়া অবৈধ কারবারের
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কেউ একই থানায় রয়েছেন আট বছর। কারও আবার এক জায়গায় কেটে গিয়েছে ১০ বছরের বেশি। কনস্টেবল থেকে এএসআই—হাওড়া সিটি পুলিশের একাধিক থানায় বছরের পর বছর একই জায়গায় বহাল পুলিশকর্মীর সংখ্যা কম নয়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই থানায় থেকে যাওয়া এই পুলিশকর্মীদের একাংশ হয়ে উঠেছে থানার ‘ডাক মাস্টার’। মাসোহারা পাওয়ায় তাঁদের মদতেই ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে মদ, জুয়া, সাট্টা সহ একাধিক অবৈধ কারবার।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর হাওড়া স্টেশন চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, গোলাবাড়ি, শালিমার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠা মদ, জুয়া, সাট্টার ঠেক কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল। অভিযোগ, পরিস্থিতি এখন ফের বদলে গিয়েছে। হাওড়া স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ডে আগের মতো প্রকাশ্যে সাট্টা-জুয়ার আসর না বসলেও ঘুরে ঘুরে ‘রাউন্ডে’ চলছে কারবার। অভিযোগ, দীঘা বাসস্ট্যান্ডের উলটোদিকে রাতভর গমগম করছে বেআইনি মদ ও গাঁজার ঠেক। এক কারবারির কথায়, পুলিশের ‘রেট’ বেড়েছে বলেই ব্ল্যাকে বিক্রি হওয়া মদের দাম বাড়াতে হয়েছে। শুধু ঠেক নয়, হাইওয়ে থেকে শহরে ঢোকা ট্রাক-লরি থেকেও তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে।
গত আগস্ট মাসে ব্যাঁটরা থানায় ঘুষ নিতে গিয়ে দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেপ্তার হন এক সাব-ইনস্পেক্টর। পরের দিন নাজিরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের এক কনস্টেবলও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। ওই সপ্তাহেই এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে গোলাবাড়ি থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেপ্তার হন। বছরের পর বছর একই থানায় থাকা পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের একাংশের দাবি, গোলাবাড়ি, লিলুয়া, বেলুড়, এ জে সি বোস বি গার্ডেন, ডোমজুড়, সাঁকরাইল থানা সহ হাওড়া সিটি পুলিশের বিভিন্ন থানায় বহু বছর ধরে কর্তাদের ‘গুড বুকে’ থাকা কর্মীরাই এখন ‘ডাক মাস্টার’-এর ভূমিকা পালন করছেন। 
হাওড়া কোর্টের এক আইনজীবীর কথায়, ‘ডাক মাস্টার’ নামে কোনো সরকারি পদ নেই। থানা এলাকায় অসাধু কারবারিদের থেকে তোলা আদায়ের নেপথ্যে থাকেন যিনি, তাঁকেই ‘ডাক-মাস্টার’ নামে ডাকা হয়।’ বর্তমানে ঘুষ-তোলাবাজি নিয়ে কড়াকড়ি বাড়লেও বছরের পর বছর একই জায়গায় থেকে যাওয়া কর্মীদের বদলি করতে এত গড়িমসি করছে কেন প্রশাসন?
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সুমন রায় বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোনো কর্মীকে বদলির পিছনে অন্যতম কারণ হল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দুর্নীতির সুযোগ না পান। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ রেগুলেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুল অনুযায়ী দুই বা তিন বছর পরপর পুলিশ কর্মচারীদের বদলি বাধ্যতামূলক। জনস্বার্থেই সেই বদলি হওয়া উচিত।’ হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। নির্দিষ্টভাবে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ