Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফের পরিত্যক্ত আবাসন: কংক্রিটের রিজার্ভার ঘিরে আতঙ্ক, ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের

ভেঙে চুরমার বেস স্ল্যাব, কলামের গা ফুঁড়ে ঝুলছে মোটা লোহার রড। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাওড়ার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিত্যক্ত পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোয়ার্টারের কংক্রিটের রিজার্ভার।

হাওড়ায় পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফের পরিত্যক্ত আবাসন: কংক্রিটের রিজার্ভার ঘিরে আতঙ্ক, ঝুঁকি  নিয়ে দিনযাপন কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভেঙে চুরমার বেস স্ল্যাব, কলামের গা ফুঁড়ে ঝুলছে মোটা লোহার রড। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাওড়ার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিত্যক্ত পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোয়ার্টারের কংক্রিটের রিজার্ভার। বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়া ওই জলাধারটি ঝুঁকে রয়েছে পাশের এইচআইটি কোয়ার্টারের দিকে। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কিউ ব্লকের ২৪টি পরিবার। তাঁদের আশঙ্কা, বড়সড় দুর্ঘটনা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Advertisement

শৈলেন মান্না সরণি সংলগ্ন এইচআইটি কোয়ার্টারের পাশেই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফের কোয়ার্টার। প্রায় দু’দশক আগে জনশূন্য হয়ে যায় কোয়ার্টারগুলি। সীমানা প্রাচীরের ধারেই রয়েছে ওই জলের ট্যাঙ্ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে রিজার্ভারের কাঠামো কার্যত ভগ্নপ্রায়। বেস স্ল্যাব ভেঙে গিয়েছে, কলাম ও ব্রেসিংগুলির কংক্রিটের চাঙড় খসে পড়ছে। উপরে ওঠার সিঁড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। জীর্ণ কংক্রিটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে থাকা লোহার রডে স্পষ্ট বিপদের ইঙ্গিত। স্থানীয়দের দাবি, ভারসাম্য হারিয়ে জলের ট্যাঙ্কটি ক্রমশ এইচআইটি কোয়ার্টারের দিকে হেলে গিয়েছে। বাসিন্দা সুরজিৎ পান ও জোৎস্না দাসের কথায়, ‘ওই ট্যাঙ্ক যদি ভেঙে পড়ে, প্রাণহানি এড়ানো যাবে না। বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ ও পুরসভাকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ কোনো পদক্ষেপ করেনি।’
বাসিন্দাদের আরও দাবি, রিজার্ভারে জলের লাইন চালু রয়েছে এবং পাম্প সচল। পাশে বিএসএনএল অফিসের কর্মীরা নিয়মিত জল নেন সেখান থেকে। জলের অতিরিক্ত চাপে কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘রিজার্ভারে জল তোলা হলে সেখান থেকে বৃষ্টির মতো জল ঝরে পড়ে রাস্তায়। ফলে রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে।’ ফলে পথচলতি মানুষ ও স্কুল পড়ুয়াদের পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। স্থানীয় বিএসএনএল অফিসের কেয়ারটেকারদের বক্তব্য, পাম্প সচল রাখতেই জল তোলা হয়, যদিও পরিস্থিতির ঝুঁকি তারা অস্বীকার করেননি। 
এদিকে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা রিজার্ভারটি দ্রুত ভেঙে ফেলার জন্য বিএসএনএল কর্তৃপক্ষকে বলা হবে। তবে ততদিন আতঙ্ককেই সঙ্গী করে থাকতে হবে এইচআইটি কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ