নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী তিনদিন রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইমতোই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল নবান্ন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে জেলাগুলিকে ৯ দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার জন্য জেলার কন্ট্রোল রুমগুলিকে সচল রাখার পাশপাশি নীচু এলাকায় বাসিন্দাদের প্রয়োজনে অন্যত্র সরানোর কথাও বলা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরছে। এর প্রভাবে এদিন বিকেল পর্যন্ত বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। কিছুটা বেশি বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। আজ শুক্রবারও নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ঝাড়গ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, নিম্নচাপটি সরে গেলেও মৌসুমি বায়ু দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় থাকায় এখানে বৃষ্টি চলবে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে হলদিয়ায় (২৪২ মিমি)। কাঁথিতে ২০০, ক্যানিংয়ে ১৫০, সাগরদ্বীপে ১১০, দীঘা ও ডায়মন্ডহারবারে ৯০ এবং খড়্গপুরে ৭০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। কলকাতায়ও বেশি মাত্রায় বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা ছিল। যদিও এইসময় শহরে ২৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এদিন বিকেল পর্যন্ত কলকাতা লাগোয়া এলাকায়ও খুব বেশি বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়াবিদরা অবশ্য সন্ধ্যায় জানান, কলকাতা এলাকায় রাতের দিকেও বেশি বৃষ্টিপাতের কিছুটা সম্ভাবনা আছে।
গভীর নিম্নচাপটি এদিন বেলা ১২টা নাগাদ বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভূমিতে ঢোকার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপর ছিল। এর কেন্দ্রস্থল থেকে কলকাতার দূরত্ব ছিল ২০ কিমি। তা সত্ত্বেও কলকাতায় নিম্নচাপের প্রভাবে বিকেল পর্যন্ত বেশি বৃষ্টি না-হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন আবহাওয়া অধিকর্তা। তিনি জানান, নিম্নচাপটি যেখানে অবস্থান করে তার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বেশি বৃষ্টি হয়। এই কারণে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রে নিম্নচাপটির যে গতিপ্রকৃতি ছিল তাতে কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় আরও বেশি বৃষ্টি হলেও হতে পারত। সেইমতো আগাম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রবল বৃষ্টির ‘লাল’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য। এদিকে বেশি বৃষ্টিতে ক্যানিংয়ের কিছু জায়গায় জল জমে যায়। উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়। কিছু লোকজনকে প্রশাসনিক উদ্যোগে সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে। কোনো জায়গায় নদীবাঁধে ফাটল কিংবা ভাঙন হচ্ছে কি না সেদিকে নজর রেখেছে সেচদপ্তর। বেলা বাড়ার পর বিকেল পর্যন্ত অবশ্য ক্যানিংসহ দুই জেলার উপকূলবর্তী জায়গাগুলিতে বৃষ্টি অনেকটাই কমেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপে নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি, বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে। ঝাড়খণ্ডেও এই নিম্নচাপের প্রভাবে আজ থেকে বৃষ্টি বাড়বে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধির কিছুটা আশঙ্কা থাকছেই।