Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমি বিনিময়ের বিকল্প সূত্রে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির সম্ভাবনা পানিহাটিতে

পানিহাটির নিজস্ব জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি নিয়ে নগরোন্নয়ন দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি।

জমি বিনিময়ের বিকল্প সূত্রে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির সম্ভাবনা পানিহাটিতে
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটির নিজস্ব জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি নিয়ে নগরোন্নয়ন দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি। তবে বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া এলাকায় পানিহাটি পুরসভার যে জায়গা রয়েছে, তা বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করা হবে। উল্টে জনবসতিহীন এলাকায় সমপরিমাণ জমি পুরসভাকে দেবে পঞ্চয়েত। সেই জমিতে গড়ে উঠবে পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ড। এতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে সবপক্ষ। আজ, শুক্রবার কেএমডিএ’র জঞ্জাল বিভাগের আধিকারিকরা পঞ্চায়েতের ওই জমি পরিদর্শনে যাবেন। আদৌ ওই জমি ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উপযুক্ত কি না, সেই রিপোর্ট দেবেন তাঁরা। পুরসভার কর্তাদের দাবি, জমি পছন্দ হলে দ্রুত হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় বছর ধরে জঞ্জাল যন্ত্রণায় তিতিবিরক্ত পানিহাটি শহরের বাসিন্দারা। রামচন্দ্রপুর ডাম্পিং গ্রাউন্ড অন্যত্র সরানোর দাবিতে স্থানীয়রা জঞ্জাল ফেলা বন্ধ করে দেওয়ায় গোটা শহর আবর্জনায় ভরে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে কেএমডিএ ডাম্পারে করে পানিহাটির আবর্জনা ধাপায় নিয়ে যাচ্ছে। যদিও তা পর্যাপ্ত নয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন শহরে গড়ে প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ টন আবর্জনা তৈরি হয়। কিন্তু ওই পরিমাণ আবর্জনা প্রতিদিন ধাপায় পাঠানোর পরিকাঠামো নেই। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে খড়দহ বিধানসভার বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষপোতায় পুরসভা নিজের জমিতে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়রা ওই জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়তে দিতে রাজি নয়। তাঁদের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি অফিস, স্কুল, ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের অফিস রয়েছে। এখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হলে দূষণ ছড়াবে। স্থানীয় বিধায়ক ও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাবাসীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। 
এই টালবাহানার মধ্যেই পানিহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেন। এদিন নগরোন্নয়ন দপ্তরের বৈঠকে পুরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই জমিতে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প তৈরি হলে দূষণ ছড়াবে না। এছাড়া পুরসভার হাতে আর কোনও জমি নেই। তখন বিলকান্দা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তরফে বিকল্প জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বলা হয়, পুরসভা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন ওই জমি পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করুক। বিনিময়ে পঞ্চায়েত অন্য জায়গার সম পরিমাণ জমি পুরসভাকে দেবে। যেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হলে তাদের কোনও সমস্যা নেই। এই প্রস্তাবে সবপক্ষই একমত হয়। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, খড়দহের বিধায়ক তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সাংসদ সৌগত রায়, পার্থ ভৌমিক, বারাকপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশী, পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সহ পদাধিকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ