নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রেজিস্ট্রেশন এড়িয়ে ইটভাটার ফাঁকিবাজি রুখতে এবার কড়া হল রাজ্য সরকার। চালু করা হল অনলাইন পোর্টাল। যার মাধ্যমে ইটভাটার রেজিস্ট্রেশন, বার্ষিক রিনিউয়াল, রাজস্ব প্রদান, বকেয়া রাজস্ব সহ যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সম্প্রতি সেই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাতে ইটভাটার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। তবে এবার থেকে আর প্রতিবছর ইটভাটাগুলির রেজিস্ট্রেশন করানোর ঝক্কি থাকবে না। সমস্ত নথিপত্র দিয়ে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই হবে। তারপর প্রতিবছর তার রিনিউয়াল হতে থাকবে। প্রশাসনের দাবি, বিগত বছরগুলিতে ইটভাটার মালিকরা বহু নথি সহকারে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতেন। গোটা প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। ফলে বছরের শেষে দেখা যেত, অধিকাংশ ইটভাটার রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়াল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। সেই সুযোগে অনেক ইটভাটাকে রাজস্ব ফাঁকি দিতে দেখা যেত। এবার গোটা প্রক্রিয়ার জন্য নতুন সিস্টেম চালু করেছে রাজ্য সরকার।
নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি সংস্কার) প্রলয় রায়চৌধুরী বলেন, আগে ই-ভূমি পোর্টালের মাধ্যমে ইটভাটার রেজিস্ট্রেশন হতো। তবে এবার নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর ফলে ইটভাটা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ আরও সহজ এবং দ্রুত হবে।
এতদিন বাংলার ভূমি পোর্টালের মাধ্যমে ইটভাটার সমস্ত রকম প্রশাসনিক কাজ করতে হতো। এই বাংলার ভূমি পোর্টালে জমি সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন কাজ করা হয়। যার ফলে অধিকাংশ দিন পোর্টালের সমস্যার কারণে রেজিস্ট্রেশন করাতে দুর্ভোগে পড়তে হতো ইটভাটার মালিক ও প্রশাসনের আধিকারিকদের। এমনকী, প্রতি বছর নতুন করে আবেদন করতে হতো ইটভাটাগুলিকে। তাই এবার brickfield.wb.gov.in নামে পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়, রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন, অনলাইন লেনদেন, রিপোর্টিং এবং মনিটরিং প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। আর সেটা করা যাবে, ব্লকের ভূমি সংস্কার অফিস থেকেই। ব্লকের ভূমি সংস্কার অফিস ইটভাটাকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনুমোদন দিতে পারবে। যা আগে জেলা অফিস থেকে দেখা হতো। যার ফলে জেলা আধিকারিকের সঙ্গে আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া কঠিন ছিল। সেক্ষেত্রে সিটিও, পরিবেশরক্ষার শংসাপত্র, ধোঁয়া পরীক্ষার কাগজ, শিশুশ্রম না করানোর শংসাপত্র, চুল্লির পরিধি ঠিকঠাক আছে কি না, এই সমস্ত কিছুর নথি পোর্টালে আপলোড করতে হতো মালিককে। তার জন্য জেলা আধিকারিকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু, এলাকায় ইটভাটার অস্তিত্ব আদৌও আছে কি না, তা জেলা অফিসের আধিকারিকদের জানা সম্ভব নয়। আধিকারিক অনুমতি দিলে তবেই ব্লক অফিস সেই নথি যাচাই করতেন। তারপর তা জেলা অফিস থেকে অনুমোদিত হতো। তবে এবার সবটাই ব্লক অফিস থেকে করা যাবে। গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর শুধুমাত্র চুড়ান্ত অনুমোদন আসবে জেলা অফিস থেকে। পাশাপাশি, ইটভাটার যাবতীয় নথিপত্র পোর্টালেই আপলোড করা থাকবে। এক্ষেত্রে মাত্র একবারই আবেদন ও আপলোড করতে হবে ভাটা মালিকদের। নতুন নিয়মে প্রতি বছর ভাটার মালিকরাই তা রিনিউয়াল করতে পারবেন। প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, অতিরিক্ত ঝক্কি এড়াতেই ইটভাটার মালিকরাও নাম তোলার উৎসাহ দেখাত না। ফলে রাজস্ব বকেয়া থেকে যেত। নতুন সিস্টেমকে ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি’ বানানো হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র