নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খিদিরপুর পোর্ট এলাকার বিখ্যাত বাসকেল ব্রিজ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট (এসএমপি) কর্তৃপক্ষ। এই কাজে মোট ১১৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে ৪০ কোটি টাকা ‘ভারতমালা’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ অনুদান হিসেবে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ হবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে।গার্ডেনরিচ ও মেটিয়াবুরুজ এলাকার সঙ্গে কলকাতার বাকি অংশের যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অভিনব সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রিয়ার একটি সংস্থা এই ‘ডবল লিফ রোলিং ব্রিজ’ নির্মাণ করে। তখন থেকেই নজর কেড়ে নেয় প্রযুক্তি ও জটিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেলবন্ধনে নির্মিত এই সেতু।
এই ধরনের সেতু কলকাতায় তো বটেই, গোটা রাজ্যে কোথাও নেই। যখন জাহাজ চলাচলের প্রয়োজন হয়, তখন ব্রিজটি মাঝ বরাবর ভাগ হয়ে দু’দিকে উঠে যায়। কিছু সময়ের জন্য সেতু দিয়ে যানবাহন চালাচল বন্ধ রাখতে হয়। জাহাজ চলে গেলে ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে ব্রিজটি। যানবাহন চলাচলও শুরু হয়ে যায়। গত ছ’দশক ধরে পরিষেবা দিয়ে চলেছে এই বাসকেল ব্রিজ। ফলে সেতুটির সামগ্রিক কাঠামো, যান্ত্রিক দিকগুলি কমবেশি দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন এসএমপি’র চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমণ। সেতুর ১৬৪০ টন ওজনের ইস্পাতের কাঠামো থেকে শুরু করে হাইড্রলিক যন্ত্র সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংস্কার করা হবে। এই কাজের জন্য রেল বিকাশ নিগমের সঙ্গে চুক্তি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। টেন্ডার ডেকে কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ের একটি সংস্থাকে। সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর এই সেতুর মাধ্যমে জাহাজ ও যানবাহন চলাচল আরও মসৃণ হবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে উন্নত হবে বন্দরের সার্বিক পরিকাঠামো। এসমপি’র মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সেতুর কাজ চলার সময়ও ওই অংশ দিয়ে যানবাহন ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। নিজস্ব চিত্র