


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সকালে সোদপুরের নির্যাতিতা তরুণী বাড়ি ফিরে আসার পর বাঁকড়ার ফ্ল্যাটে শ্বেতা খানের সেক্স র্যাকেট ফাঁস হয়। তারপর চার-পাঁচদিন কাটলেও পুলিস অভিযুক্ত শ্বেতা খান ও তার ছেলে আরিয়ান খানের হদিশ পায়নি। কিন্তু তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, শ্বেতা খান ওরফে মহসিনা বেগম তরুণীদের চাকরির টোপ দিয়ে এনে জোর করে পর্ন ছবির শ্যুটিং করিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি! বন্দর এলাকার এক ডনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তার। তার সঙ্গে মিলে বেআইনি অস্ত্রের কারবার চালাত শ্বেতা। সে ভিন রাজ্য থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে পৌঁছে দিত মেটিয়াবুরুজের ওই ডনের কাছে। নিরাপত্তার জন্য নিজের কাছেও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখত শ্বেতা। বছর দশেক আগে সেই আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালিয়ে গ্রেপ্তারও হয়েছিল সে। তার হেফাজতে থাকা একটি নাইন এম এম পিস্তল বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিস।
তদন্ত যত এগচ্ছে, শ্বেতা, তার ছেলে সহ দলবলের নানা কুকীর্তি সামনে আসছে। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, অপরাধ জগতের সঙ্গে শ্বেতার যোগসাজশ ভালোই ছিল। দাগি অপরাধীদের নিয়মিত আনাগোনা লেগে থাকত তার ফ্ল্যাটে। সেই সূত্রেই মেটিয়াবুরুজ এলাকার ওই ডনের সঙ্গে তার আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা হয়। অপহরণ, তোলাবাজি, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার সহ গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে ওই ডনের বিরুদ্ধে। হাওড়া সিটি পুলিসের তদন্তকারীদের দাবি, শ্বেতা আসলে বন্দর এলাকার ওই দুষ্কৃতীর গার্লফ্রেন্ড। ২০১৪ সালে তাদের পরিচয় হয়। তার কয়েকদিনের মধ্যে ডনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কারবারের ‘পার্টনার’ হয়ে ওঠে শ্বেতা। রিলের শ্যুটিংয়ের জন্য গাড়ি নিয়ে ভিন রাজ্যে যেত সে। সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করত অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে। তারপর আর্মস ‘ডেলিভারি’ নিয়ে পৌঁছে দিত ডনের ডেরায়। শ্বেতার ছেলে আরিয়ানও এই কারবারে জড়িত। ডনের শাগরেদরা মাঝেমধ্যে বাঁকড়ার ফ্ল্যাটে আসত ‘পার্টি’ করতে। সেখানেই রাখা হতো বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা তরুণীদের। সেই ঘরে তাঁদের ডনের শাগরেদ ও অন্যান্য পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য করা হতো। এমনকী, এই তরুণীদের মধ্যেও কয়েকজনকে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের কাজে লাগানো হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ২০১৫ সালে ফ্ল্যাটের দখল না দেওয়ার জন্য এক প্রোমোটারকে ভয় দেখাতে ডনের ‘গিফট’ দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই শ্বেতা শূন্যে গুলি ছুড়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিস। ওই এলাকার এক বাসিন্দাকে দু’লক্ষ টাকা ধার দেওয়ার পর তা আদায়ের জন্যও শাগরেদদের মাধ্যমে সে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল বলে অভিযোগ।
শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জেনেছেন, শনিবারও সে টাকা তুলেছে। সেক্ষেত্রে এটিএম ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানতে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিস। শ্বেতা ও আরিয়ানের দেশত্যাগ আটকাতে তাদের পাসপোর্টের নথি খুঁজে লুক আউট সার্কুলার জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে ভিডিও করার আড়ালে চরবৃত্তি বা হানিট্র্যাপের মতো কোনও কাজ সে করত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, মঙ্গলবার শ্বেতার বাঁকড়ার ফ্ল্যাটের পিছন থেকে একগোছা চুল উদ্ধার করে পুলিস। সেই চুলের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।