সংবাদদাতা, বজবজ: একাধিক খুন, দাদাগিরি থেকে জোর করে তোলাবাজি, জমি দখল সহ বহু অভিযোগে ঠাকুরপুকুর মহেশতলার ব্লকের শামালির পোড়া খোকন এখন জেলে। তাতে স্বস্তি ফিরে আসার বদলে পোড়া খোকনের শাগরেদদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ শামালি, রসপুঞ্জ সহ সংশ্লিষ্ট ব্লকের নানা অঞ্চলের আপাত নিরীহ বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পোড়া খোকনের নাম করে অনুগতরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে দাদাগিরি, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজি আর ছিনতাই করছে। বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে শামালিতে মজুত করে রাখছে। পুলিস যাতে সহজে অস্ত্রের হদিশ করতে না পারে সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মহিলাদের।
পাশাপাশি এই অনুগতরা শামালির বাইরে গিয়েও ছিনতাইয়ের কাজ করছে। কয়েকদিন আগে নেপালগঞ্জ এলাকায় শামালির পোড়া খোকনের অনুগতরা গিয়ে ছিনতাই করে। সেই সময় তাদের গুলিতে প্রতিবাদী এক যুবকের মৃত্যু হয়। তাতে আরও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্টদের জন্য এলাকা অশান্ত হয়ে থাকছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিস এর মধ্যে শামালিতে অভিযান চালিয়ে মহিলা সহ পোড়া খোকনের অনুগত কয়েকজনকে ধরে। তাদের কাছ থেকে প্রচুর বেআইনিভাবে মজুত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। কিন্তু সমস্যা হল, খোকনের গ্যাংয়ের আরও অনেককে ধরতে পারেনি পুলিস। তারাই এখন দাদাগিরি ও ছিনতাই চালাচ্ছে। আরও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ গিয়েছে পুলিসের কাছে। জেলা পুলিসের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, শামালিতে মহিলারা আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রাখে। পুলিস অভিযানে গেলে এমনভাবে বাধা দেয়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও পোড়া খোকনের অনুগতদের সকলকে ধরা যাচ্ছে না তৃণমূলের কিছু মাতব্বরের অঙ্গুলিহেলনের জন্য। রসপুঞ্জ এবং শামালির দু’জন তৃণমূল নেতা পোড়া খোকনের অনুগত ক্রিমিনালদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য পুলিসের কাজ মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছে, পুলিসকে দুষ্কৃতী ও তাদের মদতদাতাদের কড়া হাতে দমন করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। ওই পুলিস আধিকারিক জানান, ইতিমধ্যেই শামালির এক তৃণমূল নেতাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।