Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসক হতে চায় দুঃস্থ মেধাবী সৌম্যদীপ

চিকিৎসক হতে চায় দুঃস্থ মেধাবী সৌম্যদীপ
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: বাবা লরিচালকের হেল্পারের কাজ করেন। সামান্য রোজগারে সংসার চালানোই কঠিন। অগত্যা লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঠেও কাজ করে গোয়ালতোড়ের সৌম্যদীপ ঘোষ। অভাবকে জয় করে মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য পেল ছোট নাকদনা আদিবাসী হাইস্কুলের এই ছাত্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৯। গড়বেতা-২ ব্লকে সম্ভাব্য প্রথম হয়েছে সৌম্যদীপ।

Advertisement

এই কৃতী ছাত্রের পরিবার জানিয়েছে, সে কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে নিয়মিত খেলাধুলা করে। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। তবে বিজ্ঞানবিভাগে পড়ার খরচ রয়েছে। সেই খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়েই চিন্তিত সৌম্যদীপের পরিবার।
সৌম্যদীপ বলল, আমার রেজাল্টের পিছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব বাবা ও মায়ের। সেইসঙ্গে মামাবাড়ি থেকে ও স্কুলের শিক্ষকরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা ভোলার নয়। উচ্চমাধ্যমিকেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।
সৌম্যদীপের বাবা অনুপ ঘোষ লরির হেল্পারের পাশাপাশি সামান্য চাষবাস করেন। মা কুমকুম ঘোষ গৃহিণী। তাঁদের বাড়ি গোয়ালতোড় থানার বড় নাকদনায়। তাঁরা জানালেন, ছোটবেলা থেকেই ভালো রেজাল্ট করত সৌম্যদীপ। মাঝেমধ্যে মাঠে কাজ করার চাপ থাকলেও সে রোজ গড়ে আট-নয় ঘণ্টা পড়াশোনা করত। স্থানীয় শিক্ষকদের কাছে টিউশনি পড়ত। রোজ সন্ধ্যায় টানা পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে।
সৌম্যদীপ বাংলায় ৯৩, ইংরেজিতে ৯৭, অঙ্কে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ১০০, জীবনবিজ্ঞানে ৯৩, ইতিহাসে ৯৯ ও ভূগোলে ৯৮ নম্বর পেয়েছে। তার মা কুমকুম ঘোষ বলেন, ওর জন্য সেভাবে কিছুই করতে পারিনি। কিন্তু তাও ভালো রেজাল্ট করেছে। আগামী দিনে ছেলের পড়াশোনা কীভাবে চালাব জানি না। প্রশাসন থেকে যদি সহযোগিতা করা হয়, তবে উপকার হবে।
ছোটনাকদনা আদিবাসী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু দে বলেন, কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে সৌম্যদীপ। আগামী দিনেও আমরা ওর পাশে থাকার চেষ্টা করব।
গড়বেতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, এই কৃতী ছাত্রের পাশে সর্বদা থাকব। ও দারুণ রেজাল্ট করে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এলাকার আরও কিছু স্কুলের পড়ুয়ারা ভালো ফল করেছে। সৌম্যদীপ সহ তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ