Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেহাল পরিষেবা, কর মকুব করে ক্ষত সামলানোর চেষ্টা, চুঁচুড়ায় নয়া নিয়োগের হুঁশিয়ারি পুরকর্তার

চুঁচুড়ায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দারা ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ। এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে পরিষেবা কর মকুবের সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা

বেহাল পরিষেবা, কর মকুব করে ক্ষত সামলানোর চেষ্টা, চুঁচুড়ায় নয়া নিয়োগের হুঁশিয়ারি পুরকর্তার
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দারা ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ। এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে পরিষেবা কর মকুবের সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা। যতদিন পরিষেবা স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এই কর নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। গত আটদিন ধরে সাফাই সহ নানা পুর পরিষেবা কার্যত বন্ধ। ফলে ভোগান্তির অন্ত নেই বাসিন্দাদের। তবে কর মকুবের এই সিদ্ধান্তে নাগরিকদের ক্ষোভ কতটা মিটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কারণ, ইতিমধ্যেই ঘরে-বাইরে আবর্জনার স্তূপ পাহাড় প্রমাণ হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট সাফ না হওয়ায় শহরে নাকে রুমাল বেঁধে ঘুরতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বাড়ির আবর্জনাও সংগ্রহ করতে আসছেন না সাফাই কর্মীরা। ফলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নাগরিকরা। 

Advertisement

শুধু নাগরিকদের ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টাই নয়, পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলন নিয়েও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকল্প কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন পুরকর্তারা। একদিকে আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে পুর কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপের ফলে রীতিমতো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জনমানসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, সিপিএম এবং বিজেপি মিলিতভাবে এই অবৈধ আন্দোলনকে মদত দিচ্ছে। সঙ্গে আরও কিছু ষড়যন্ত্রী আছেন। অস্থায়ী কর্মীরা চুঁচুড়ার মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তার পরিণতি ভালো হবে না। আমরা পুরসভার পক্ষ থেকে নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাই঩ছি। পাশাপাশি, পরিষেবা দিতে না পারায় আমরা পুরকর নেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একইসঙ্গে তাঁর হুমকি, আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছে। এরপর আর নমনীয় মনোভাব দেখানো হবে না। প্রয়োজনে বিকল্প কর্মী নিয়োগের পথে হাঁটা হবে। শহরজুড়ে সাফাই সহ পরিষেবার অবস্থা বেহাল। এবিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদারের ভূমিকা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন বেহাল পরিষেবার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন বিধায়ক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিষয়। তিনি অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রবীণ প্রশাসক। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারী কর্মীদের নেতৃত্ব এদিন এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, পুর প্রশাসন চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। সেসব জেনেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। পিছু হটার প্রশ্ন নেই।
গত সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। তার জেরে শহরের রাস্তাঘাট, বাড়ির সাফাই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বিপদে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঘরে-বাইরে জঞ্জালের জ্বালায় বিপর্যস্ত জনজীবন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ক্ষমা চেয়ে এবং পুরকর মকুবের কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল পুর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত কিছুর পরেও পুরসভা কেন বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে নাগরিকদের চর্চা কিছুতেই থামছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ