সংবাদদাতা, বারুইপুর: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সব বেহাল রাস্তা মেরামত করতে হবে। কিন্তু এখনও মেরামতের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। বর্তমানে বারুইপুর থেকে শুরু করে জয়নগর, কুলতলি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজারে প্রায় সব রাস্তার অবস্থাই অতি বেহাল। বড়ো বড়ো গর্তে জল জমে আছে। প্রতিদিনই সেগুলিতে হয় গাড়ি উল্টে যাচ্ছে বা মানুষ পড়ে গিয়ে আঘাত পাচ্ছে। পুজোর আগে রাস্তাগুলি মেরামত করা না হলে প্রতিমা কী করে মণ্ডপে নিয়ে আসবেন, তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে পুজো কমিটিগুলির। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক অফিসার অবশ্য বলেন, বেহাল সব রাস্তা দ্রুত মেরামতের জন্য বলা হয়েছে।
বারুইপুরের পদ্মপুকুর, রেলগেট থেকে বারুইপুর পুরসভা পর্যন্ত, আবার বারুইপুর গার্লস হাইস্কুলের সামনে থেকে একেবারে গোচরণ পর্যন্ত রাস্তার পিচ উঠে বড়ো বড়ো খানাখন্দে ভরেছে। আবার সুভাষগ্রাম থেকে পাঁচঘড়া হয়ে কাটাখাল যাওয়ার রাস্তাও অতি বেহাল। একই অবস্থা দক্ষিণ বারাসতে ঢোকার আগে, জয়নগর থেকে কুলতলির জামতলা পর্যন্ত এবং জামতলা থেকে মৈপীঠ গঙ্গার ঘাট যাওয়ার রাস্তার। ছোটো বড়ো গর্তে জল জমে মরণফাঁদে পরিণত। অথচ প্রতিদিন রাস্তাগুলি দিয়ে কয়েকশো গাড়ি চলাচল করে। বারুইপুর, জয়নগর, কুলতলির হাসপাতালে যেতেও এই রাস্তাগুলিই ভরসা। কিন্তু সেগুলি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স করে রোগী নিয়ে যেতে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়।
শোচনীয় অবস্থা মন্দিরবাজারের লক্ষ্মীকান্তপুর ও হটুগঞ্জ থেকে রায়দিঘি খাঁড়ি যাওয়ার রাস্তার। রায়দিঘি সেতু থেকে দমকল যাওয়ার রাস্তাতে যাতায়াত করাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। বিরক্ত গাড়িচালকরা বলেন, চাকা প্রতিদিন পাল্টাতে হচ্ছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো মেরামত হচ্ছে না। ভুক্তভোগী যাত্রীরা রাস্তার সমস্যা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। রায়দিঘি, কুলতলির পুজো কমিটির লোকজন বলেন, রাস্তার অবস্থা এতো খারাপ যে কী করে গাড়িতে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে আসব, জানি না। খুব চিন্তায় পড়েছি। একই কথা বারুইপুর, জয়নগর, মন্দিরবাজারের পুজো কমিটিগুলির। তাঁরা বলেন, অবিলম্বে রাস্তা মেরামত করতেই হবে প্রশাসনকে। নতুবা আন্দোলনে নামবে এলাকার লোকজন।