নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়িতে বসে ১৫২ টাকার খাবার অর্ডার করেছিলেন সল্টলেকের এক বাসিন্দা। যথা সময়ে সেই খাবার ডেলিভারিও হয়েছিল। কিন্তু খাবার ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। তাই ১৫২ টাকা ফেরত চেয়ে (রিফান্ড) তিনি সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সংস্থায় অভিযোগ করেন। কিন্তু টাকা ফিরে পাওয়ার বদলে বড়সড় প্রতারণার শিকার হলেন তিনি। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় পৌনে দু’লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। টাকা স্থানান্তর হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি তথ্য ধরে পুলিস পুনে থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তারও করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতের নাম প্রদীপ দত্তরয় চাবন ওরফে মুন্ডা। কিন্তু অ্যাকাউন্টে সে প্রদীপ মুন্ডা নামটি ব্যবহার করেছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের প্রতারিত ওই বাসিন্দা সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সংস্থায় অভিযোগ করার পর একটি ফোন পান। নিজেকে সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সংস্থার কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ পরিচয় দিয়ে ফোন করে একজন। আসলে সে ছিল প্রতারক। সে সল্টলেকের ওই বাসিন্দার কাছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চায়। সেই অ্যাকাউন্টেই টাকা রিফান্ড করা হবে বলে জানায়। কিছুক্ষণ আগে যেহেতু সল্টলেকের বাসিন্দা নিজেই ফোন করেছিলেন সংস্থায়, তাই সন্দেহের কোনও অবকাশ ছিল না। দ্রুত তিনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য জানিয়ে দেন ফোনের অপর দিকে থাকা ব্যক্তিকে। এরপর একটি ‘ভেরিফিকেশন কোড’ (ওটিপির মতোই) আসে তাঁর ফোনে। সেই কোডও তিনি জানিয়ে দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে টাকা ফেরত হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করে ফোন রেখে দেয় সে। তার কিছুক্ষণ পর অভিযোগকারীর ফোনে একটি এসএমএস ঢোকে। তিনি ভেবেছিলেন, ওই ১৫২ টাকা ফেরত এসেছে। কিন্তু মেসেজ খুলে পড়তেই চোখ কপালে! কারণ, ক্রেডিট নয়, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট হয়ে গিয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৯৫ টাকা! প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, প্রতারণার টাকা থেকে ৫০ হাজার পুনের এক যুবকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সেই অ্যাকাউন্টের তথ্য খুঁজে বার করে পুলিস। কেওয়াইসি বের করে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যে প্যানকার্ড যুক্ত রয়েছে, সেখানে অ্যাকাউন্ট গ্রাহকের নাম প্রদীপ মুন্ডা। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিসের একটি দল পুনে গিয়ে অভিযুক্ত প্রদীপকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, তার আসল নাম প্রদীপ দত্তরয় চাবন ওরফে মুন্ডা। পুনের কোথুর্ড থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে ফোন, প্যানকার্ড এবং আধার বাজেয়াপ্ত করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে পুনে থেকে বিধাননগরে নিয়ে এসে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। বিচারক তাকে ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের সবাইকে পাকড়াও করতে তদন্ত চলছে।