নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার বিষ্ণুপুরে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। এদিন সকালে বিষ্ণুপুর ব্লকের কুলুপুকুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে অভিভাবকরা জড়ো হন। তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের চাল ও ডালে পোকা কিলবিল করছে। তা খিচুড়ির সঙ্গে মিশে থাকছে। ডিম ও সব্জিও ভালো করে সিদ্ধ করা হয় না। ফলে ওই নিম্নমানের খাবার খেয়ে শিশুদের পশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের পেটের সমস্যা হচ্ছে। বর্ষায় এমনিতেই পেটের রোগের প্রকোপ বেশি লক্ষ্য করা যায়। তারউপর সরকারি প্রকল্পের নিম্নমানের খাবার খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছে। বেশকিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প সুপারভাইজারের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিষ্ণুপুরের ভারপ্রাপ্ত সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক(সিডিপিও) প্রীতম ভট্টাচার্য বলেন, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এদিন খবর পেয়ে সুপারভাইজার ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। বর্ষার কারণে চাল, ডাল স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই কেন্দ্রের কর্মীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু ও মা মিলিয়ে ওই কেন্দ্রে প্রায় ৬৬ জন উপভোক্তা রয়েছেন। তাঁরা দৈনিক ওই কেন্দ্র থেকে পুষ্টিকর খাবার পেয়ে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অঞ্জনা পাত্র, রিমা হাজরা বলেন, চাল ও ডালে পোকা থাকে। খিচুড়িতেও মরা পোকা, আরশোলা, মাকড়সা পাওয়া যায়। তা খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বারবার বলা সত্ত্বেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী কোনও ব্যবস্থা নেননি। সরকারের সরবরাহ করা চাল, ডালেই পোকা থাকে বলে তাঁরা দাবি করেন। খাবার ভালোভাবে কেনও সিদ্ধ হয় না? এই প্রশ্ন তুললে জ্বালানি ঘাটতির অজুহাত দেওয়া হয়। অবিলম্বে প্রশাসনকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী সারদা ভাণ্ডারীপাত্র বলেন, ডালে দু’-একটা পোকা থাকলেও চাল পরিষ্কার রয়েছে। চাল-ডালের পাত্রের ঢাকনা ভালোভাবে লাগানোর পরেও মাঝেমধ্যে আরশোলা ঢুকে যায়। তার ফলে সমস্যা হয়ে থাকে। তবে আমরা রান্নার আগে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিই। আমাদের কেন্দ্রের সহায়িকাও ওই খাবার খেয়ে থাকেন। অভিভাবকদের অভিযোগ ঠিক নয়।