Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অধিবেশনের পারফরম্যান্স খারাপ, গত ৩ বছর বিধানসভার ‘মার্কশিট’ নিম্নগামী

কমপক্ষে ১০০ দিনের অধিবেশন হবে রাজ্য বিধানসভাগুলিতে। আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, অল ইন্ডিয়া স্পিকার কনফারেন্সে। কনফারেন্সে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গও।

অধিবেশনের পারফরম্যান্স খারাপ, গত ৩ বছর বিধানসভার ‘মার্কশিট’ নিম্নগামী
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: কমপক্ষে ১০০ দিনের অধিবেশন হবে রাজ্য বিধানসভাগুলিতে। আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, অল ইন্ডিয়া স্পিকার কনফারেন্সে। কনফারেন্সে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গও। কিন্তু তারপরও গত তিন বছর ধরে বাংলার বিধানসভার অধিবেশনের দিন ক্রমহ্রাসমান। ২০২৩ সালে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন হয়েছিল মোট ৪০ দিনের। ২০২৪ সালে তা কমে হয় ৩৬ দিন। চলতি ২০২৫’এ, আরও খারাপ অবস্থা। মাত্র ৩০ দিনের অধিবেশন হয়েছে রাজ্য বিধানসভায়। বছরে কমপক্ষে ১০০ দিনের অধিবেশন, এ বিষয়ে লিখিত কোনও অর্ডার না থাকলেও, দেশের সমস্ত বিধানসভা কর্তৃপক্ষ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চেষ্টা করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাও চেষ্টা করেছে, এটা বলার অপেক্ষায় রাখে না। কিন্তু পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে। 

Advertisement

সাধারণত বছরের শুরুতে রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রাজ্যের বিধানসভা অধিবেশন পর্ব। এরপর থাকে দপ্তরওয়াড়ি বাজেট। তারপর বর্ষাকালীন অধিবেশন বসে টানা কয়েকদিনের। একদম বছরের শেষে হয় শীতকালীন অধিবেশন। এটাই চলতি রুটিন। এর বাইরে যদি কোনও বড় ঘটনা ঘটে কিংবা জনসমাজে আলোড়ন ফেলা গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয় সামনে আসে, তা নিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য বিশেষ অধিবেশন বসার নজির রয়েছে। শাসক ও বিরোধী সকলের কাছেই বিধানসভার অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন সরকারপক্ষ তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও বিল বিধানসভার অধিবেশনে নিয়ে আসে, তেমনই জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভ অধিবেশনে তুলে ধরে সরকারপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন বিরোধীরা চলতি মাসের ১৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ বুধবার পর্যন্ত বাংলার বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশন বসেনি। সচিবালয় সূত্রে খবর, বছরের যে কটি দিন বাকি রয়েছে তার মধ্যে অধিবেশন বসবার তেমন কোনও সম্ভাবনাও নেই। যেহেতু এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাই বিধায়করা নিজের নিজের এলাকায় ব্যস্ত আছেন। বুধবার পর্যন্ত মেলা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মাত্র ৩০ দিন বিধানসভার অধিবেশন হয়েছে। যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে কম। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অধিবেশনে বিল এবং প্রস্তাব ছাড়াও বিভিন্ন কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা চেষ্টা করি, বিধানসভার অধিবেশনের দিন যাতে বেশি সংখ্যায় নিয়ে যাওয়া যায়। সরকার পক্ষ তাদের যে বিজনেস বা কার্যবিবরণী দেয়, সেটা নিয়েই আলোচনা হয়। আবার বিরোধী পক্ষেও কোনও প্রস্তাব জমা দিতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে চেষ্টা থাকে, সারা বছরই বিধানসভার অধিবেশনের সময় বিধায়করা যাতে তাঁদের বক্তব্য রাখতে পারেন। রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, নভেম্বর মাসের ৪ তারিখ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। যেহেতু এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের যোগাযোগ, সেক্ষেত্রে বিধায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। বিরোধী পক্ষ বিজেপির বর্ষীয়ান বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বলেন, বিধানসভা হল বিরোধীদের জায়গা। সেখানে গঠনমূলক সমালোচনা এবং সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো তুলে ধরবে বিরোধীরা। সেটা যাতে তুলে ধরতে না পারি, সেই কৌশলগত কারণেই বিধানসভার অধিবেশনের দিনক্ষণ ক্রমশ কমিয়ে 
দিচ্ছে সরকার পক্ষ। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং সংবিধানের পক্ষে যা মোটেই সুখকর নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ