নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নভেম্বরেই ঠান্ডা টের পাওয়া যাচ্ছে কলকাতায়। শীত যেমন একদলের কাছে পিকনিক, ফেস্টিভ মুডের ঋতু, তেমনই একদল মানুষের কাছে তা কষ্টের। কারণ বৃষ্টি না হওয়ায় বা কম হওয়ায় এই সময় বায়ুদূষণ চরমে ওঠে। দূষিত পরিবেশে বাড়ে শ্বাসকষ্টের সমস্যা। যাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের কাছে শীতকাল হয়ে ওঠে গুরুতর সমস্যার ঋতু। এই সময় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা নীচের দিকে নামতে থাকে। সেই কারণে বাড়তে থাকে বায়ুদূষণের সূচক। চারদিক ধোঁয়াশায় ভরে ওঠে। আর বর্তমান বাতাসের যা অবস্থা, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আর আলাদা করে অসুস্থ হতে হয় না। সুস্থ মানুষও সমস্যায় পড়ছেন।
কলকাতার বাতাস ক্রমেই বিষিয়ে উঠছে। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকছে দূষণের সূচক। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বায়ুদূষণ সূচকের (একিউআই) গড় ছিল ১৯৫। এদিন রাতে সেই সূচক পৌঁছে যায় ২০৭-এ। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে এমন পরিস্থিতিতে যেকোনও মানুষেরই শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সবচেয়ে ‘বিষাক্ত’ যাদবপুর ও ভিক্টোরিয়া-ময়দান চত্বর! বুধবার সন্ধ্যার তথ্য বলছে, এই সময় যাদবপুরের একিউআই ছিল ২৯৭। আর ভিক্টোরিয়া সহ ময়দান চত্বরের একিউআই ছিল ২৭৮। ফোর্ট উইলিয়াম এলাকার বায়ুদূষণ সূচকও ২০০ স্পর্শ করেছে। পরিবেশকর্মী নব দত্ত বলছিলেন, ‘ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষজন এই বিষয়টিকে একটি মরশুমি সমস্যা বলে অবহেলা করছেন। ভবিষ্যতের কথা না ভেবে এমন কাজকর্ম আসলে আমাদের শহরকেও দিল্লির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরাও এই বিষয় নিয়ে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা কমাতে আরও বেশি করে জল দিতে হবে। গাছ লাগাতে হবে। এসব দাবি আমরা অনেকদিন ধরে করে আসছি।’
এদিন সকাল থেকেই দেখা যায়, ময়দান, পার্ক সার্কাস সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকা ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। সেখানে সুস্থ মানুষেরও নিঃশ্বাস নিতেও অসুবিধা হচ্ছিল। নববাবুর কথায়, ‘আসলে আমরা যাঁরা সাধারণ মানুষ, বাসে-অটোতে যাতায়াত করি, আমরা সমস্যাটা অনুভব করতে পারছি। কিন্তু কর্তারা কাচ ঢাকা গাড়িতে চড়েন। এসব সমস্যা তাঁরা টের পাবেন কীভাবে!’