সংবাদদাতা, বহরমপুর: খোলা গাড়িতে বর্জ্য পরিবহণে বহরমপুর পুরকর্তৃপক্ষের উপর নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ, খোলা গাড়িতেই শহরের উপর দিয়ে বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরফলে এলাকার রাস্তা ও বায়ু দূষণ হচ্ছে। যার জেরে সমস্যায় পড়ছে পথচলতি মানুষ। বারবার একই অভিযোগ আনা সত্ত্বেও পুরকর্তৃপক্ষ বর্জ্য পরিবহণে পর্যাপ্ত ঢাকা গাড়ি না বাড়ানোয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে। বহরমপুর শহরে বিভিন্ন কাজে বাইরে থেকে আসা মানুষজনও একই অভিযোগ তুলেছেন। পুর কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, ঢাকা গাড়ি ও সাফাই কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। বহরমপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ২৮টি ওয়ার্ডে মোট ৪৪ হাজার হাউস হোল্ডার রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বাইরে থেকে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ শহরে আসেন। রয়েছে বস্তি এলাকা। বিভিন্ন ভ্যাটে প্রতিদিন ১৬০ মেট্রিক টন বর্জ্য পদার্থ জমা হয়। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, অনলাইন খাবারের প্যাকেট ও ওয়েস্টেজ মেটারিয়াল প্রচুর বেড়েছে। যেগুলি হাত ঘুরে ভ্যাটে এসে জমা হচ্ছে। বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বাড়ায় সাফাই কর্মীর সংখ্যা ২০০ জন বাড়িয়ে ৭৫০ জন করা হয়েছে। পুরসভার ওই আধিকারিকের দাবি, শহরের আবর্জনা সাফাইয়ে প্রতিবছর ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর মাত্র ৫৬ লক্ষ টাকা দেয়। বাকি টাকা পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচা করতে হয়। শহরে রাতেও সাফাই কাজ শুরু করা হয়েছে। শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নাগরিকদের সেভাবে ক্ষোভ নেই। শহরবাসীর অবশ্য দাবি, ঢাকা গাড়িতে বা বর্জ্য পদার্থ পলিথিন দিয়ে ঢেকেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হোক। কান্দি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুমিত হাজরা বলেন, শহরের সিংহভাগ বর্জ্য এই পথ দিয়েই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যায়। রোজ গাড়ি থেকে দুর্গন্ধ আর আবর্জনা ছড়াতে ছড়াতে যায়। নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হয়। কবে আমাদের দুর্ভোগ কাটবে জানি না।



