একলপ্তে সাড়ে চারহাজার ভুয়ো ভোটার ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে। একই মোবাইল নম্বর জুড়ছে একাধিক নতুন ভোটারের নামের সঙ্গে। জলপাইগুড়িরও একটি ব্লকে চিহ্নিত হয়েছে শ’দেড়েক জাল ভোটার। রাজ্যে ভোটার লিস্টে ৯২ হাজারের বেশি অবৈধ নাম ঢুকেছে। এমন কয়েকটি অনিয়মের অস্ত্র হাতে নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) স্বচ্ছ, নির্ভীক এবং নিরপেক্ষ থাকারই দাবি জানিয়ে এল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের মোদ্দা কথা, কমিশন যেন কারও চাপের কাছেই নত না-হয়। এমনকী, বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চব্বিশের ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি মেনে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির মুখোমুখি বসেছিল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাতে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশ চিক বরাইক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিম। দলের পক্ষে তৈরি একটি নথি সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যুতে কমিশনের অবস্থান জানতে চান তাঁরা। তাঁরা একাধিক প্রস্তাবও দেন কমিশনকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—ভোটার লিস্ট থেকে ভোটযন্ত্র (ইভিএম), আচমকা ভোটার সংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ভুয়ো ও ডুপ্লিকেট ভোটার, আদর্শ নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার প্রভৃতি। তৃণমূল প্রতিনিধিদের পরিষ্কার কথা, ভোটার লিস্ট শুদ্ধকরণের নামে কোনও ধরনের কারচুপি যেন না-হয়। বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালের যে ভোটার লিস্ট সামনে রাখা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তা চলবে না। বাংলায় আগামী বিধানসভা ভোটের ভিত্তি হোক গত লোকসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা। তারপর তালিকায় যাঁদের নাম যুক্ত হয়েছে বা হচ্ছে, তাঁদের নথি-তথ্যাদি যাচাইয়ের জন্য ইসিআই যুক্তিগ্রাহ্য কিছু শর্ত চাপাতেই পারে। সেখানেই খেয়াল রাখতে হবে যে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হেনস্তার মুখে না পড়েন। গত লোকসভা নির্বাচনের জন্য যে ভোটার লিস্ট গৃহীত হয়েছিল সেটাই তো সাম্প্রতিক। তাহলে পুরনো ভোটার তালিকাকে ভিত্তি হিসেবে মেনে না নেওয়ার কী যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকতে পারে? সংগত কারণে, ইসিআই কর্তাদের সামনে এই সওয়ালই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিরা।


