


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গোসাবা ও পাথরপ্রতিমার প্রান্তিক দ্বীপাঞ্চলে নির্বাচনের দু’দিন আগে ভোটকর্মীদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু এবার বদলে যাচ্ছে সেই প্রথা। কারণ নির্বাচন কমিশন নয়া শর্ত দিয়ে জানিয়েছে, দুদিন আগে ভোট কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। তৈরি করতে হবে পৃথক স্ট্রং রুম। দুদিন ধরে ভোট কর্মীদের বুথে থাকতে দেওয়া যাবে না। কমিশনের এই বার্তা পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই দুই দ্বীপাঞ্চলের বেশিরভাগ বুথে ভোটের একদিন আগে কর্মীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, যাঁদের অনেক দূরের দ্বীপে ডিউটি পড়েছে তাঁদের আগে সব জিনিসপত্র দিয়ে নৌকা ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। এক আধিকারিক বলেন, এই সব ভোট কর্মীদের জন্য আলাদা করে কিছু বোটের ব্যবস্থা করা থাকবে। তাঁদের সকাল সকাল ইভিএম সংগ্রহ করার কাউন্টার বা ডিসিআরসিতে এসে যাবতীয় কাজ শেষ করে ভোট যন্ত্র নিয়ে নদীপথে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে স্থানীয় প্রশাসন। ওই দু’টি বিধানসভা মিলিয়ে প্রায় ৪০০ বুথের ভোটকর্মীদের নির্বাচনের দুদিন আগে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা ছিল। নদী পথে অনেকটা সময় লাগার পাশাপাশি একটি দ্বীপ থেকে আরেকটি দ্বীপ যেতেও বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। তাই প্রশাসন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে এই উদ্যোগ বিগত নির্বাচনগুলিতে নিয়ে আসছিল। এবার প্রাথমিকভাবে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষমেশ বাতিল করে দিতে হয়। বুথে অতিরিক্ত দিন ভোটকর্মীদের রাখার পক্ষপাতী নয় কমিশন। তবে সংশ্লিষ্ট জেলাকে যদি ভোটের দু’দিন আগে কর্মীদের পাঠাতেই হয়, তাহলে মানতে হবে একাধিক শর্ত। সেগুলি মানতে গেলে প্রশাসনের নানা রকম সমস্যা হচ্ছিল। বাড়তি ব্যবস্থা করতে এক প্রকার হিমশিম খাচ্ছিলেন আধিকারিকরা। ফলে সব খতিয়ে দেখে ঠিক হয়, গোসাবা ও পাথরপ্রতিমা বিধানসভায় দুদিন আগে আর পাঠানো হবে না ভোট কর্মীদের। এবার তাঁরা একদিন আগেই যাবেন।