Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মানবাধিকারে রাজনীতি, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তালিকায় পতন ভারতের

শুধুমাত্র রাজনৈতিক রং দেখে কাজ করছে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ হতে দেখা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগ কিন্তু কোনও বিরোধী দলের নয়।

মানবাধিকারে রাজনীতি, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তালিকায় পতন ভারতের
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: শুধুমাত্র রাজনৈতিক রং দেখে কাজ করছে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ হতে দেখা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগ কিন্তু কোনও বিরোধী দলের নয়। বরং খোদ রাষ্ট্রসঙ্ঘের। তাদের শাখা সংগঠন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনস (জিএএনএইচআরআই) সাফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নীতি মেনে কাজ করছে না ভারতের মানবাধিকার কমিশন। বিশ্বের সমস্ত দেশের মানবাধিকার কমিশনের স্বীকৃতির দায়িত্বে রয়েছে এই সংগঠন। শুধু অভিযোগ তুলেই থেমে যাওয়া নয়, কড়া পদক্ষেপও নিয়েছে তারা। ভারতের মানবিধকার কমিশনের গ্রেড বা মর্যাদা ‘এ’ ক্যাটিগরি থেকে ‘বি’তে নামিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রথমবার। এই পতনের অর্থ পরিষ্কার, আন্তর্জাতিক নীতি মেনে চলছে না মোদির ভারত। তার জন্য ‘এ’ গ্রেড প্রাপ্য নয়।

Advertisement

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখা হচ্ছে না। কমিশনের উচিত, সব ধরনের মানবাধিকার ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু তা হয়নি। রিপোর্টে কী বলা হয়েছে? জিএএনএইচআরআই জানিয়েছে, বিরুদ্ধ স্বর দমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ভারতে বহু মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা হয়েছে। অথচ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কমিশন সেখানে হস্তক্ষেপ করেনি বা ওই মানবাধিকার কর্মীদের ন্যূনতম ভরসা জোগাতেও ব্যর্থ হয়েছে। পুলিসের বিরুদ্ধে মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের জন্য ভরসা করা হচ্ছে পুলিসের আধিকারিকদের উপরই! এছাড়া বারবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার অভিযোগ উঠলেও পদক্ষেপ করা হয়নি। গত মার্চে আয়োজিত হয় জিএএনএইচআরআই-এর ৪৫তম অধিবেশন। সেখানেই ভারতের মানবাধিকার কমিশনের মর্যাদা হ্রাস করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। 
মোদি সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির রাজনীতিকরণ নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংস্থাগুলিকে ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্টে সেই বিষয়টি আরও বেআব্রু হয়ে গেল। গত বছর ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ভি রামাসুব্রহ্মণ্যমকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁরা নোট দিয়ে বলেছিলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের বৈচিত্র্যের বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি। রিপোর্টে সেই প্রসঙ্গও এসেছে। বলা হয়েছে, কমিশনের সদস্যপদ বণ্টনের ক্ষেত্রেও বহুত্ববাদের নীতি মানা হয়নি। সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন মহিলা। বিভিন্ন পদ খালি থাকা সত্ত্বেও সেগুলি পূরণ করা হচ্ছে না। কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাদের ৩৩৯ জন কর্মীর মধ্যে ৯৩ জন মহিলা। কিন্তু এই সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংগঠনটি। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ বলছেন, কমিশন যদি সত্যিই মানবাধিকার ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী হয়, তাহলে এই রিপোর্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা উচিত।
২০২৩ সাল থেকেই ভারতের মানবাধিকার কমিশনের কাজের উপর নজর ছিল। এ জন্য পরপর দু’বছর কোনও গ্রেড দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত এবার অবনমনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হল। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এখনই এই গ্রেড কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সাল পর্যন্ত ‘এ’ গ্রেড বজায় থাকবে। তার আগে পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিয়ে ফের ‘এ’ গ্রেড ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে ভারতের কমিশন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ