সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিক্ষোভে বাধা, আঘাতে রক্ত ঝরলেও দমবেন না। সরকার বিরোধী আন্দোলনের পথ থেকেও সরবেন না। বরং নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে প্রতিবাদ আরও তীব্র হবে। বুধবার এই ভাষাতেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বললেন, ‘যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুবরা যে দাবিতে প্রতিবাদ করছে, তার সঙ্গে শুধু আমি নই। সব বিরোধী দল আছে। তাই আমাকে যতই আটকানোর চেষ্টা করুক... পাঁচগুণ আঘাত করুক, কিছু এসে যায় না। আন্দোলন চলবে। এক সময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল বিশ্বসেরা। আজ মোদি জমানায় শিক্ষা ব্যবস্থায় রিগিং চলছে। গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সাড়ে সাত কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে সরকার। অথচ দোষী সাব্যস্ত হয়নি একজনও। সাজা শূন্য। তাই কোনোভাবেই আর সরকার পার পাবে না। জবাব দিতেই হবে।’
সোমবার ছাত্র-যুবদের উপর দিল্লি পুলিশের ‘বর্বরতা’র অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রকে কোণঠাসা করতে মোদি বিরোধী দলগুলি যাবতীয় ভিডিয়ো ক্লিপিংস জোগাড় করছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ‘বিরোধীদের হাতে ইতিমধ্যেই ১,১৮৫টি ক্লিপিং এসেছে। এইসব ভবিষ্যতে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে কাজে লাগানো হবে।’ রাহুল গান্ধীও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিবাদী ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশের নির্মম আচরণের চারটি ভিডিও ক্লিপিং দেখান। বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি তিনটি—১) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। ২) ছাত্রদের যারা আঘাত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ৩) প্রধানমন্ত্রীকে চাইতে হবে ক্ষমা।’
সড়ক থেকে সংসদ, নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে উত্তাল রাজধানী। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজনে ‘সংসদ চলো’ অভিযান ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস। আর মঙ্গলবার রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীদের লোক কল্যাণ মার্গ থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া। তাই বুধবার সংসদের দুই কক্ষেই চলল প্রতিবাদ। সংসদ চত্বরে কালো জামাকাপড়ে পরে, হাতে কালো ব্যাজ লাগিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভ হল। সরকার যতক্ষণ না দাবি মানছে, ততক্ষণ অবস্থানে অনড় থাকবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে বিরোধীরা। সরকারের উদ্দেশে রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন, ‘ছাত্ররা কী অপরাধ করেছে? কেন তাদের দিকে অস্ত্র তাক করা হচ্ছে? কেন মারধর করা হচ্ছে? এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকেই দিতে হবে। আর চুপ থাকলে চলবে না।’