Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬

যুব বিক্ষোভে মার: কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস দিল্লি হাইকোর্টের

দিল্লি যুব বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে হাইকোর্ট নোটিস জারি করেছে। কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত পড়ুন।

যুব বিক্ষোভে মার: কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস দিল্লি হাইকোর্টের
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: প্রশ্ন করলেই মার। আঙুল তুললে চড়। জমায়েত দেখলেই লাঠি। তাতে লাগানো রয়েছে পেরেক! সোমবার ঠিক এভাবেই সংসদ অভিযান থামিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োগুলি অন্তত তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। আর তাই পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’-এর অভিযোগ তুলে দিল্লি আদালতে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস দিয়ে জবাব তলব করল উচ্চ আদালত। আন্দোলনের সময় ঘটনাস্থলের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং এই সংক্রান্ত ছবি-ভিডিয়ো সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

মামলাকারীদের অভিযোগ, সংসদ অভিযানে মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তাঁদের গোপনাঙ্গ লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। অভিযোগের সমর্থনে ১১০টি ভিডিয়ো আদালতে পেশ করার কথাও জানান তাঁদের আইনজীবীরা। জবাবে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস রাজু দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা হিংসা ছড়িয়েছেন। তাঁদের হামলায় বহু পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, এই মামলাগুলি শুধুমাত্র প্রচারের আলো কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে সরকারপক্ষ নিশ্চিত হচ্ছে যে, এটা স্রেফ প্রচারের জন্য দায়ের করা মামলা? সেই প্রশ্ন তোলে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চ। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী এন হরিহরণ ও বিকাশ সিংও জানান, সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করার অধিকার প্রয়োগ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু এরপর যে ঘটনা ঘটেছে, তা অকল্পনীয়। ৯০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পুলিশের জখম হওয়ার কথা মেনে নিয়েও গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
অন্য এক আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ আবার অভিযোগ করেন, আন্দোলনস্থল থেকে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়াও বেআইনি ছিল। সোমবারের মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী এটি শেষ বিকল্প হওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি, আন্দোলন শুরুর আগেই ঘটনাস্থলের কাছে পাথরভর্তি একটি গাড়ি রাখারও অভিযোগ তোলেন তিনি। জবাবে এস রাজু বলেন, আবেদনকারীরা মূলত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না-করা ভিডিয়ো দেখে মন্তব্য করছেন। এত অভিযোগ থাকলে এফআইআর দায়েরের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত ছিল। সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি হাইকোর্টে আসার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে নোটিস জারি করে হাইকোর্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ