Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মেয়ের মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি!’ পানিহাটিতে দিনভর কটাক্ষে হতোদ্যম বিজেপি প্রার্থী রত্না

‘মেয়ের মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করছেন?’ ‘শেষ পর্যন্ত আমাদের সহানুভূতি নিয়ে খেলতে নামলেন?’ কোথাও আবার উঠল ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান

‘মেয়ের মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি!’ পানিহাটিতে দিনভর কটাক্ষে হতোদ্যম বিজেপি প্রার্থী রত্না
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘মেয়ের মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করছেন?’ ‘শেষ পর্যন্ত আমাদের সহানুভূতি নিয়ে খেলতে নামলেন?’ কোথাও আবার উঠল ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান। বুধবার দিনভর এভাবেই সাধারণ মানুষের কটাক্ষ ও বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। কোথাও তাঁর কনভয়ে পানিহাটির গলি রাস্তা দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পথচারীরাই ক্ষোভ উগরে দিলেন। এসবের মধ্যে দৃশ্যতই হতোদ্যম বিজেপি প্রার্থী ও নেতৃত্ব ক্ষোভ উগরে দিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরেই। আর দিনভর সুচারু ভোট করিয়ে চওড়া হাসি হেসেছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। 

Advertisement

এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে নাটাগড় সংঘের ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী। এরপর বিভিন্ন বুথ ঘুরতে শুরু করেন। উষুমপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মীরা এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু ভোটারকে দেখে ‘বহিরাগত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। দৌড়ে আসেন তৃণমূল কর্মীরা। শুরু হয় তীব্র বচসা। বিজেপি প্রার্থী কেন ‘বহিরাগত’দের নিয়ে ঘুরছেন, পালটা আপত্তি তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। রত্নাদেবীর স্বামী মোবাইলে ছবি তোলায় তাঁকে তৃণমূল কর্মীরা বলেন, ‘গুন্ডামি করতে কেন এসেছেন?’ এনিয়ে দু’পক্ষের তীব্র বচসা শুরু হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সামনেই। সেই সময় ভোট দিতে আসা স্থানীয় মানুষজন রত্নাদেবীকে সামনে পেয়ে বলেন, ‘এখানে ভোট নিয়ে কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। আপনি এত গাড়ি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ঝামেলা পাকাচ্ছেন।’ বিরক্ত এক মহিলা বলেন, ‘আপনি মেয়ের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে পারলেন? আমাদের আবেগ নিয়ে খেললেন? আমরা কিন্তু রাত দখলে নেতৃত্ব দিয়েছি।’ এসব প্রশ্নে কার্যত নিশ্চুপ ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। পরে কিউআরটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাস্থলে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কার্যত ধমক দিতে দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে। 
এরপর তাঁরা ঘোলা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গেলে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় কাউন্সিলার অরিন্দম বিশ্বাসকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। কেন কাউন্সিলার বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় হতেই তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সেখানে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় রত্নাদেবীকে। এরপর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপল্লি লাইব্রেরি ও পুজোমণ্ডপ ভোটকেন্দ্র, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আগরপাড়া পাঠাগারের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘সর্বত্র আমাকে কটূক্তি করা হচ্ছে। বলছে, মেয়েকে নিয়ে ব্যবসা করছি! এরা কি মানুষ?’
অন্যদিকে, সকাল থেকে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ ও সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে বেরিয়েছেন। পানিহাটিতে এদিন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃপ্তির হাসি মুখে তীর্থঙ্করবাবুর  বার্তা, ‘ভোট ভালো হয়েছে। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ