শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সাইবার জালিয়াতদের ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ চিহ্নিত করতে এবার এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে রাজ্য পুলিশ। রিজার্ভ ব্যাংকের তৈরি করা মিউল অ্যাকাউন্ট হান্টারের সাহায্য নেবে তারা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই। অ্যাকাউন্টগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা পাচার রুখে দেওয়াই পুলিশের লক্ষ্য।
দেশজুড়ে সাইবার জালিয়াতি বাড়ছে। লোক ঠকানো টাকা পাচারেই মিউল অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যের নামে খোলা এসব অ্যাকাউন্টের দখল নিজের হাতে রাখছে সাইবার প্রতারণা চক্রের কিংপিনরা। তার বিনিময়ে অ্যাকাউন্টের মালিক মাসে বা বছরে একটা কমিশন পাচ্ছেন। দেশজুড়ে এরকম কয়েক লক্ষ মিউল অ্যাকাউন্ট খুলেছে সাইবার প্রতারণার গ্যাং। বিভিন্ন জালিয়াতির তদন্তে নেমে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একাধিক মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাচার হওয়ায় মানি ট্রেল পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তে এমনও উঠে এসেছে, মৃত ব্যক্তির নামেও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে! পুলিশের তরফে বিভিন্ন ব্যাংকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে, ব্যাংককর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই নথি ঠিকমতো যাচাই না করেই অ্যাকাউন্ট খুলে দিচ্ছেন। অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধির জন্য কর্মীদের উপর কর্তৃপক্ষের বাড়তি চাপই এর কারণ বলে অভিযোগ ওঠে। এই সুযোগটাই নিচ্ছে জালিয়াতরা। আর এই প্রতারণার বহর দিন দিন বাড়তে থাকায় আসরে নেমেছে আরবিআই।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, গোলমেলে অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে মিউল অ্যাকউন্ট হান্টার নামে এআই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তার মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকান্টের চরিত্র বিশ্লেষণ করা হবে। অ্যাকাউন্টগুলির ডেটার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করবে পুলিশ। সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলিকে চিহ্নিত করা হবে আলাদাভাবে। কোন কোন অ্যাকাউন্টে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হচ্ছে সেগুলি এই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হবে। সেখান থেকে মিউল অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করা যাবে সহজেই। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কাজটি শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যুক্ত করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশকে। এই প্রযুক্তি পুলিশের নাগালে চলে এলে গোলমেলে অ্যাকাউন্টগুলির তদন্তে গতি আসবে। চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধের জন্য আবেদন করতে পারবে পুলিশ। এতে বৈধ গ্রাহকের টাকা পাচার ঠেকানো যাবে। পাশাপাশি দেশের সমস্ত ব্যাংককেও এই প্রযুক্তি দেওয়া হবে, যাতে মিউল অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে তারাও পৃথকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়।