নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গভীর রাতে কলকাতা পুলিশের এক এএসআইয়ের বাড়ির সামনে দেদার বাজি ফাটানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড বাধে পানিহাটিতে। বাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করেন ওই পুলিশ কর্মীর বাড়ির লোকজন। তা নিয়ে পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের হতাহাতির ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। দু-পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দু-পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও পানিহাটির দক্ষিণ পানশিলা কল্যাণ সমিতি কালী পুজোর আয়োজন করে। ওই পাড়ায় কলকাতা পুলিশের এক এএসআইয়ের বাড়ি। পুজো কমিটির সদস্যরা ওই পুলিশ কর্মীর কাছে দু-হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ৬০০ টাকা চাঁদা দেন। পরে সেই টাকা পুজো কমিটি ফেরতের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ওই পরিবার তাদের সমস্যার কথা পুজো কমিটিকে জানিয়েছিল। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।
কালীপুজোর পরদিন, অর্থাৎ ২১ তারিখ রাত ২টো নাগাদ কিছু যুবক ওই বাড়ির অদূরে ব্যাপক বাজি ফাটাচ্ছিল বলে অভিযোগ। ওই পুলিস কর্মীর স্ত্রী ছাদ থেকে তার প্রতিবাদ করেন। তা নিয়ে শুরু হয় বচসা। এরপর পুলিশ কর্মীর স্ত্রী ও কন্যা ছাদ থেকে নেমে আসেন। এনিয়ে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই পুলিশ কর্মীর মেয়ে এক মহিলাকে চড় মারতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক মহিলার জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ কর্মীর স্ত্রী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর শুরু হয় মহিলাদের মধ্যে মারপিট ও ধস্তাধস্তি। এরপর পাড়ার পুরুষরাও তাতে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ কর্মীর স্ত্রীকেও মারধর করে এক যুবক। পুলিস কর্মীর এক আত্মীয়কেও মারধর করা হয়।
পুলিশ কর্মীর স্ত্রী বলেন, ‘এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে বহিরাগতরা মদ খেয়ে রাত ২টো থেকে বাজি ফাটাচ্ছিল। বারান্দায় বেরিয়ে বারণ করলে তারা আমাদের হুমকি দেয়। নীচে নেমে কথা বলতে বলে। তখন বড়ো মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবাদ করি। ক্লাবের কর্তারাও সেখানে ছিল। ভেবেছিলাম, ওরা সমস্যা মেটাবে। কিন্তু উলটে বাজি ফাটাতে ওদের উৎসাহই দেয় তারা। এনিয়ে বলতে গেলে আমাকে এবং আমার মেয়েকে মারধর করে ওরা। নিজেদের বাঁচাতে তখন আমরাও পালটা মেরেছি। আসলে গতবছর থেকে ক্লাবের চাহিদা মতো চাঁদা দিতে পারছিলাম না আমরা। সেই রাগেই, আমার স্বামী বাড়ি নেই জেনে পরিকল্পনামাফিক এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’
পালটা অভিযোগ তুলে পানশিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। পুলিশ কর্মীর স্ত্রী ও পরিবার যে ঘটনা ঘটিয়েছে তার সিসি ক্যামেরা ফুটেজও রয়েছে। ওরাই প্রথম মারপিট শুরু করে। এলাকায় আগুন জ্বালানোর হুঁশিয়ারি দেয়। মহিলাদের মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেয় ওরা। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই। আমরাও থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’