কালীপুজোয় নিষিদ্ধ শব্দবাজি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে পুলিশ: শংকর
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবার রুখতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেবে। শনিবার শিলিগুড়িতে পরিবেশ বিষয়ক একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পর একথা জানান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। ওই সংস্থার অভিযোগ, গ্রিন বাজির নাম করে বিক্রি হয় নিষিদ্ধ শব্দবাজি। এমনকি, অনলাইনেও অবৈধভাবে চলে নিষিদ্ধ বাজির কারবার। এদিকে, আজ, রবিবার শিলিগুড়িতে উদ্বোধন হবে বাজিবাজার বা মেলার। এজন্য শহর সংলগ্ন কাওয়াখালিতে অস্থায়ী স্টল তৈরি করা হয়েছে। মেলা চলবে আটদিন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে কোনো নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি হবে না। আইন মেনে গ্রিন বাজিই বিক্রি হবে।

Advertisement

আর মাত্র সাতদিন। তারপরই বাঙালির দ্বিতীয় মেগা উৎসব কালীপুজো ও আলোর উৎসব দীপাবলি। ফি বছরই এই উৎসবে অবাধে ফাটে নিষিদ্ধ শব্দবাজি। এতে শহরে শব্দ ও বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ে। এনিয়ে এদিন শহরের পিডব্লুডি ইন্সপেকশন বাংলোতে একটি আলোচনা সভা করে পরিবেশ সংক্রান্ত একটি সংস্থা। তাতে পর্যটনমন্ত্রী যোগ দেন। এবার কালীপুজো ও দীপাবলিতে শব্দ ও বায়ু দূষণ রোধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি মন্ত্রীর কাছে জানায় ওই সংস্থা।
ওই সংস্থার সম্পাদক দীপ নারায়ণ তালুকদার বলেন, শব্দবাজির আওয়াজ ৯০ ডেসিবেলের বেশি হওয়ার কথা নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ‘গ্রিন বাজি’ রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ফাটানোর নির্দেশ রয়েছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু, বিগত বছরগুলিতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকাগুলি কার্যকরি করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার আরএক কর্মকর্তা অনিমেষ বসু বলেন, বাজারে গ্রিন বাজির নাম করে শব্দবাজি বিক্রি করা হয়। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বৃদ্ধাশ্রম সহ যেখানে-সেখানে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো হয়। দীপনারায়ণবাবু ও অনিমেষবাবু দু’জনই বলেন, এবার যাতে নিষিদ্ধ শব্দবাজি কারবার ও ফাটানো রুখতে পুলিশ ও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তারা যাতে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই অনুরোধ মন্ত্রীর কাছে করা হয়েছে। এবার দুর্গাপুজোয় ‘শব্দদানব’ ডিজের ব্যবহার রুখতে মন্ত্রী প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবার ও ফাটানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেবে পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনকে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে, আমজনতা নিজে থেকেই নিষিদ্ধ শব্দবাজি প্রত্যাখ্যান করুক। এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন করাও হচ্ছে। পরিবেশ সংক্রান্ত ওই সংস্থা জানিয়েছে, কালীপুজোর আগে ৫ নভেম্বর তারা এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক পদযাত্রা করবে। তাতে শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবী সহ সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন।