সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মার্বেলে মোড়া সুসজ্জিত বাড়ি। ভিতরে রয়েছে দামি দামি আসবাব থেকে মিউজিক সিস্টেম। এমনকী, রয়েছে ওয়াকার মেশিনের মতো শরীর চর্চার নানা সরঞ্জাম। শুধু তাই নয়, শোকেসে সাজানো পিতলের বাসন থেকে ঘর সাজানোর নানা ধরনের সামগ্রী। এমন বিলাসবহুল বাড়ি দেখে প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছিলেন চুরির ঘটনার তদন্তে যাওয়া পুলিস অফিসার। প্রাথমিকভাবে রাজাপুর থানার ওই তদন্তকারী অফিসারের মনে হয়েছিল, চুরির অভিযোগে ধৃত ব্যক্তি তাঁদের বিভ্রান্ত করতেই অন্য বাড়িতে নিয়ে এসেছে। একজন দুষ্কৃতীর বাড়িতে এইসব দেখে চক্ষু চড়কগাছ ওই অফিসারের। যদিও খানিক বাদে ভুল ভাঙে তাঁর।
হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ রাজাপুর থানার পুলিস নাকা চেকিং করছিল। সেই সময় এক সিভিক ভলান্টিয়ার ফোনে পুলিসকে জানান, চুরির উদ্দেশ্যে এক দুষ্কৃতী ঘোষালচক হালদারপাড়ায় বঙ্কিম হালদারের বাড়িতে ঢুকেছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজাপুর থানার দুই অফিসার সুবীর মল্লিক এবং কৌশিক দাস পুলিস কর্মীদের নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছন এবং হাতেনাতে অভিযুক্ত অমিত দত্তকে গ্রেপ্তার করেন। ধৃতের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি থানা এলাকার ভাটকাখালি গ্রামে। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের এক কর্তা বলেন, ধৃতকে গ্রেপ্তারের পর জেরার সময় প্রথমে সে নাম-ঠিকানা ভুল বললেও পরে তার পরিচয় জানা যায়। ধৃতকে নিয়ে তদন্তকারী অফিসার নোদাখালিতে তার বাড়িতে গেলে বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি সামনে আসে। ওই পুলিস কর্তার দাবি, অমিত দত্তের চুরি করাই পেশা। উলুবেড়িয়ার নিমদিঘি, রাজাপুর সহ বিভিন্ন এলাকা এবং ১৬ নং জাতীয় সড়কে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সে যুক্ত। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে পুলিস আধার কার্ড, মানিব্যাগ সহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে। পুলিস অফিসার ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আর কারা জড়িত, তাদের নাম ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। নিজস্ব চিত্র