Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিএনএস-বিএনএসএস নিয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু রাজ্যে, তৃণমূল আমলে হয়নি ট্রেনিং, মামলার শুনানিতে জুটছে আদালতের ভর্ৎসনা

২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে গোটা দেশে আইপিসির বদলে বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) এবং সিআরপিসির জায়গায় বিএনএসএস (ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহতি) চালু হয়েছে।

বিএনএস-বিএনএসএস নিয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু রাজ্যে, তৃণমূল আমলে হয়নি ট্রেনিং, মামলার শুনানিতে জুটছে আদালতের ভর্ৎসনা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে গোটা দেশে আইপিসির বদলে বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) এবং সিআরপিসির জায়গায় বিএনএসএস (ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহতি) চালু হয়েছে। কিন্তু নতুন এই আইন-বিধি নিয়ে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রাজ্য পুলিশের কর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণই দেয়নি তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলা আদালতে মুখ থুবড়ে পড়ছে। ভুলভাল ধারায় মামলা বা বিএনএসএসের নিয়ম না মানায় অভিযুক্ত অনায়াসে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। পালাবদলের পর বিষয়টি সামনে আসায় সমস্ত জেলার থানার তদন্তকারী অফিসারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করল রাজ্য। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ করতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

দেশে বিএনএস ও বিএনএসএস চালু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু তদানীন্তন রাজ্য সরকার এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ। দিল্লি চাইছিল, তাদের থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্যে ফিরে গিয়ে অফিসাররা থানার অন্যান্য কর্মীকে নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত করবেন। কিন্তু তা হয়নি। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজ করতে গিয়ে থানার তদন্তকারী অফিসাররা সমস্যায় পড়েন। যেমন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের কারণ, তাঁর পরিবারকে জানানো থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ক্রমাগত ভুল করে চলেছেন তদন্তকারীরা। নতুন ধারায় সাত বছরের সাজা রয়েছে, এমন কেসে অভিযুক্তকে নোটিস দিতে হবে। এই নিয়ম না মেনে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এসব কারণে বিভিন্ন মামলায় বারবার আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের। নতুন আইন অনুযায়ী কিছু বাজেয়াপ্ত করার পর ‘আনকাট ভিডিওগ্রাফি’ও করা দরকার। তাও করছে না অনেক থানা। আর এসব খামতির সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। 
কী কারণে অভিযুক্তরা পরপর জামিন পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে নতুন সরকারের আমলে কাঁটাছেঁড়া শুরু হতেই প্রশিক্ষণ না হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। যদিও প্রশিক্ষণ হয়েছে বলে খাতায়কলমে  দিল্লিকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। এরপরই রাজ্য পুলিশ সিদ্ধান্ত নেয়, প্রথমে ‘মাস্টার ট্রেনার’ তৈরি করা হবে। তাঁরাই থানা স্তরে প্রশিক্ষণ দেবেন। সেই মতো প্রথমে বাছাই করা কিছু অফিসারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেনার’ করা হয়। তাঁরাই থানায় থানায় তদন্তের সঙ্গে যুক্ত অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষ হলে আদালতে এখন যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে, তা শীঘ্রই মিটে যাবে বলে আশাবাদী পুলিশকর্তারা। পাশাপাশি, যেসব গুরুত্বপূর্ণ  মামলায় অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গিয়েছেন, সেসব ক্ষেত্রে আইনিভাবে কী কী ত্রুটি ছিল, তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ