নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আজ, সোমবার খুশির পরব ঈদ। রবিবার রামনবমী। দু’টি উৎসব ঘিরেই সেজে উঠেছে শিলিগুড়ি। গোলমাল এড়াতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে পুলিস। তারা ক্যুইক রেসপন্স টিম থেকে অ্যান্টি সাবতাজ টিম, উইনার্স বাহিনী থেকে পিঙ্ক ভ্যান নামাবে ময়দানে। প্রয়োজনে ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিস সূত্রে খবর, দু’টি উৎসবের জন্য শহরের রাস্তায় নামানে হবে পুলিস অফিসার সহ এক হাজারেরও বেশি ফোর্স।
শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ঈদ সুষ্ঠুভাবে করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নামাজ পাঠের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ চত্বরে পুলিস মোতায়েন থাকবে। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন পার্ক, শপিংমল চত্বরে নজর রাখা হবে। রামনমবীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও চলছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে থানা পর্যায়ে কো-অর্ডিনেশন মিটিং হয়েছে।
ডেপুটি পুলিস কমিশনার (ট্রাফিক) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ঈদের জন্য কোনও রাস্তায় যান চলাচল ডাইভার্ট করার হচ্ছে না। তবে নামাজ পাঠের সময় কিছু রাস্তায় স্বল্প সময়ের জন্য যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে মোতায়েন থাকবে ট্রাফিক পুলিস। আর রামনমবী নিয়ে এখনও কয়েকদিন সময় রয়েছে। ঈদ উৎসব মেটার পর রামনমবীর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে।
ঈদ উপলক্ষ্যে শহরের অধিকাংশ সংখ্যালঘু পাড়া এবং মসজিদ আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ঈদের নামাজ পাঠ হবে। এজন্য সর্বত্র প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি পুরসভার কাউন্সিলার তথা ২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান মহম্মদ আলম খান বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, মাল্লাগুড়ি, চম্পাসারি, কারবালা ময়দান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের নামাজ পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারমধ্যে স্টেডিয়ামেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ভিড় করবে। এজন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুশির এই পরব সুষ্ঠুমতো করতে পুলিস ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট উৎসব নির্বিঘ্নে করতে কমিশনারেট অফিসে চালু করা হয়েছে কন্ট্রল রুম। সেটি তদারকি করছেন ডিসিপি পদ মর্যাদার এক অফিসার। এরবাইরে গোলমাল এড়াতে দুই ডিসিপির নেতৃত্বে স্টেডিয়াম, ঈদগাহ ও বিভিন্ন মসজিদের সামনে মোতায়েন থাকবে পুলিস। সকল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেবে অ্যান্টি সাবতাজ টিম, ক্যুইক রেসপন্স টিম, সাদা পোশাকের পুলিস। এই পরব ঘিরে এখানে জলসা না হলেও দুপুরের পর থেকে পার্ক, দর্শনীয়স্থান, শপিংমল, মাল্টিপ্লেক্স প্রভৃতি এলাকায় ভিড় জামায় উৎসব প্রিয় মানুষরা। তাই ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই রুখতে এবং মহিলাদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে উইনার্স টিম ও পিঙ্ক ভ্যান নামানো হবে।
এদিকে, আগামী ৬ এপ্রিল রামনমবী। ইতিমধ্যে গেরুয়া পতাকায় শহরের বিভিন্নপ্রান্ত সাজিয়ে তোলা হয়েছে। রামনবমী মহাউৎসব কমিটির সম্পাদক লক্ষণ বনসাল বলেন, ওইদিন মাল্লাগুড়ি হনুমান মন্দিরে পুজো হবে। এরপর শহরে শোভাযাত্রা বের করা হবে। তাতে শালবাড়ি, গুলমা, মিলন মোড়, ফাঁপড়ি, ইস্টার্ন বাইপাস প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রায় ১৪৬টি টিম অংশ নেবে। এই অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করার জন্য ওইদিন মদের দোকান বন্ধ রাখার আবেদন প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন রাস্তায় অ্যান্টি সাবতাজ টিম, ক্যুইক রেসপেন্স টিম, পিঙ্ক ভ্যান প্রভৃতি থাকবে। ড্রোন উড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি চালানো হবে। গোলমাল এড়াতে প্রতিটি শোভাযাত্রা দলের সঙ্গে থাকবে পুলিস। শোভাযাত্রায় ডিজে বক্স ও অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে।