কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: রেশনের খাদ্যসামগ্রী বাইরে পাচার ও কালোবাজারি বন্ধ করতে আরও কড়া হল রাজ্য সরকার। গত বছর আগস্টে নতুন কন্ট্রোল অর্ডার জারি করে এব্যাপারে ডিলারদের জরিমানার পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়েছিল। মোট জরিমানার পরিমাণ তখন কয়েক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে লক্ষাধিক টাকা করা হয়। সেই সঙ্গে একাধিক অনিয়ম ঘটালে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও চালু করা হয়। সম্প্রতি সেই কন্ট্রোল অর্ডারের সংশোধন করে রেশন ডিলারদের উপর তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত অভিযান প্রক্রিয়ায় পুলিস আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছে। এতদিন খাদ্য দপ্তর ও প্রশাসনিক কিছু শীর্ষ আধিকারিকরাই শুধু এই কাজ করতে পারতেন। কন্ট্রোল অর্ডারের ৫৩ নম্বর ধারা সংশোধন করে ওই তালিকায় পুলিসের সাব-ইনসপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, খাদ্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নিয়ে পুলিস আধিকারিক রেশন ডিলারের দোকানে অভিযান চালাতে পারবেন। তবে তাঁর সঙ্গে একজন খাদ্য দপ্তরের সাব-ইনসপেক্টরকে রাখতে হবে।
রেশন ব্যবস্থা পরিচালনা হয় পিডিএস কন্ট্রোল অর্ডারের মাধ্যমে। ২০১৩ সালের পর ২০২৪-এর আগস্টে খাদ্য দপ্তর নতুন কন্ট্রোল অর্ডার জারি করে। ওই অর্ডারে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর ধার্য জরিমানার অঙ্ক অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ১০-১৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ডিলার পার পেয়ে যেতেন, সেখানে এখন জরিমানার অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। তার সঙ্গে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে, খোলাবাজারে তার দামের কয়েকগুণ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ডিলার একাধিকবার অনিয়ম করলে জরিমানার অঙ্ক বাড়ে। দু’বারের বেশি অনিয়ম করলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন কন্ট্রোল অর্ডারে।
নতুন কন্ট্রোল অর্ডার জারি করার কয়েক মাস পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খাদ্য দপ্তরের প্রধান সচিব পারভেজ আমেদ সিদ্দিকি একটি সংশোধনী এনে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এই সংশোধনীতে অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ সামান্য কমানো হয়েছে। কিন্তু মূল জরিমানার অঙ্ক কমানো হয়নি।
নতুন কন্ট্রোল অর্ডার ও পরবর্তীকালে তার সংশোধনীতে যে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাতে রেশন ডিলারদের সংগঠন ক্ষুব্ধ। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও পুলিসকে যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে, তাতে ডিলারদের হেনস্তা বাড়বে। এমনিতেই ডিলাররা আর্থিক সমস্যায় আছেন। নতুন নিয়মের বিরোধিতা করে খাদ্য সচিবকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সোমবার বিশেষ বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নেবে সংগঠন।