সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনিতে ফুলহার নদীর জল ঢুকে বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলমগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুরের ১৫টি গ্রাম। প্লাবিত ভূতনি থানা ও হাসপাতাল। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, গঙ্গার জলস্তর কমলেও ফুলহার চিন্তা বাড়াচ্ছে সেচদপ্তরের।
দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ ভেঙে ফুলহারের জল প্রবেশ করেছে ভূতনির সংরক্ষিত এলাকায়। তার জেরে বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়েছে। উত্তর চণ্ডীপুরের পুলিনটোলার রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে জল। তারমধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন ভূতনির বাসিন্দারা। জলমগ্ন হওয়ার আগে এলাকা থেকে যানবাহন বের করার হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে উত্তর চণ্ডীপুরের শঙ্করটোলা, গিরিটোলা, পুলিনটোলা, নাকীরটোলা, দুর্লভটোলা, সামিরুদ্দিটোলা, থানা মোড় সহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। পাশাপাশি, ভূতনি থানায় প্রবেশ করেছে ফুলহারের জল। থানার দুই তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কোথাও কোনও দুর্ঘটনা বা প্রয়োজন পড়লে ফোনে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে ভূতনি থানার পুলিস। অন্যদিকে, সমস্ত এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আগেই বাড়ির ছাদ বা বাঁধের উপর অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করছেন দুর্গতরা। একইভাবে দক্ষিণ চণ্ডীপুরের হরিশ্চন্দ্রপুর, গণেশটোলা, দুর্গারামটোলা, চণ্ডীপুর এছাড়াও বাঁধ সংলগ্ন সমস্ত নিচু এলাকা জলমগ্ন। প্রত্যেকেই বাড়ির ছাদ বা বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভীক শঙ্কর কুমার বলেন, এখনও ওয়ার্ডে জল না ঢোকায় পরিষেবা চালু রয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালদহ জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছে। এলাকার গর্ভবতীদের এবং সাপে কাটার রোগীদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গতদের উদ্ধার বা পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা না করায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবিষয়ে শঙ্করটোলার বাসিন্দা নিধি মণ্ডল বলেন, এখনও প্রশাসনের দেখা নেই। বাড়িতে শুকনো খাবার থাকলেও রান্না করা অসম্ভব। অন্যদিকে ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুরের কাঁটা বাঁধ এলাকায় ফুলহারের জল ঢোকার গতি কমেছে। এই পরিস্থিতিতে বালির বস্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সেচদপ্তর।
গঙ্গা ও ফুলহার এক হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। তিনি বলেন, ফুলহারের এই রূপ আগে দেখা যায়নি। যদি গঙ্গা ও ফুলহার মিশে যায়, মালদহ জেলাজুড়ে বন্যা হবে। বিষয়টি সেচমন্ত্রীকে জানিয়েছি।