সংবাদদাতা, তেহট্ট: মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বড় রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করল কৃষ্ণনগর জেলা পুলিস। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে পুলিস। নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৮ নম্বর ধারায় এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। এই ব্যবস্থার অঙ্গ হিসাবে প্রথমেই কালীগঞ্জ থানার মীরা ফাঁড়ির হাট গোবিন্দপুরের বাসিন্দা মাদক কারবারি আব্বাস মণ্ডলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিস। প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, বাকি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধেও এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর পুলিস ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম মাদক সহ আব্বাস ও জগজীবন সিং মুন্ডা নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যজনের বাড়ি ঝাড়খণ্ড। আব্বাসের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্ত শুরু করে জানুয়ারি মাসের তিন তারিখে। পুলিস আব্বাসের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সেরিনা বিবি ও ছেলে আসিফ মণ্ডলের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে জানা যায় এডিসিআর দেবগ্রাম অফিস থেকে তিনটে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। তার মধ্যে সেরিনা বিবির নামে দু’টি, আসিফের নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। ষ্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে বাজার মূল্যের থেকে অনেক কম দাম দেখানো হয়েছে। পুলিস তদন্ত করে দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পায়, যেখানে এক কোটি টাকার উপর লেনদেন হয়েছে। তদন্তকারীরা এই বিষয়ে আয়কর দপ্তরের কাছে এই লেনদেনের কোনও তথ্য বা আয়কর রিটার্ন আছে কি না জানতে চান। আয়কর দপ্তর থেকে তদন্তকারী অফিসারকে জানানো হয় ২০১৭ থেকে ২০২৩ কোনও আয়কর রিটার্ন জমা নেই। পুলিস তদন্ত করে জানতে পারে, আব্বাস ও তার স্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচটি বেআইনি সম্পত্তি কিনেছে। ওই দু’জনের নামে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার উপরে জমা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার মীরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জানতে পেরেছেন যে, তাদের বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এই সব সম্পত্তি আর টাকা কোথা থেকে এসেছে, তাঁর সঠিক জবাব সেরিনা বা আব্বাস কেউ দিতে পারেনি। সব রিপোর্ট আয়কর দপ্তরে পাঠান তদন্তকারী অফিসার ওবাইদুর রহমান। তারপরে এমাসের ১৪ তারিখ সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন স্মাগলার অ্যান্ড ফরেন এক্সচেঞ্জ মানিপুলেটরস (এসএএফইএম) আধিকারিক রজতশুভ্র বিশ্বাস।
এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার গ্রামীণ উত্তমকুমার ঘোষ বলেন, কালীগঞ্জের এক মাদক কারবারির সম্পত্তি আইন মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।