রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ছাড়া পেলেও পুরোপুরি নিস্তার নেই ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের। তাঁকে রীতিমতো পুলিশের নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তও জারি থাকবে। বৃহস্পতিবার সান্ড্রিংহাম এস্টেটের বাড়ি থেকে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা হেপাজতে রাখার পর ছেড়ে দেয় পুলিশ।
মার্কিন মুলুকের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে বিতর্কে তিনি। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। এদিকে শুক্রবারও উইন্ডসর ক্যাসেলের অ্যান্ড্রুর পুরনো বাসভবন রয়্যাল লজে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মোট ৩০টি ঘরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু মিলেছে কি না, এনিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি টেমস ভ্যালি পুলিশ।
এই ঘটনায় প্রয়াত রানির তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রুর জন্য রাজপদে উত্তরাধিকারের দরজা বন্ধের দাবি উঠেছে। জানা গিয়েছে, তদন্ত শেষ হলেই এবিষয়ে আইন পাশ করতে পারে সেদেশের সরকার। এব্যাপারে শ্যাডো স্কটল্যান্ড সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু বোয়ি বলেছেন, দোষী প্রমাণিত হলে পার্লামেন্ট অবশ্যই প্রাক্তন যুবরাজের উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে সরিয়ে দেবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এখনও তিনি কোনও কিছুতেই দোষী সাব্যস্ত হননি। এসএনপি নেতা স্টিফেন ফ্লিনও অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার থেকে সরানোর দাবিকে সমর্থন করেছেন। একই দাবি তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিও। অ্যান্ড্রুর জন্ম ১৯৬০ সালে। সিংহাসনে বসার দৌঁড়ে তিনি রয়েছেন অষ্টম স্থানে। চার্লসের পর উইলিয়াম, হ্যারি ও তাঁদের সন্তানরা সমনদে বসবেন। এরইমধ্যে ইউগভের একটি সমীক্ষায় ব্রিটেনের ৮২ শতাংশই রাজা হওয়ার দৌড় থেকে প্রাক্তন যুবরাজকে সরানোর দাবিতে সায় দিয়েছেন। মাত্র ৬ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন অ্যান্ড্রু। ছবি: এএফপি