Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গঙ্গার ধারে বেআইনি ২৫টি অস্থায়ী দোকান তুলে দিল পোর্ট ট্রাস্ট-পুলিস

গঙ্গার ধারে বেআইনি ২৫টি অস্থায়ী দোকান তুলে দিল পোর্ট ট্রাস্ট-পুলিস
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফোরশোর রোডের উপর গঙ্গার ধার ঘেঁষে গত কয়েক মাসে গজিয়ে উঠেছিল একের পর এক অস্থায়ী ফাস্ট ফুডের দোকান। পোর্ট ট্রাস্টের অনুমতি ছাড়াই চলছিল সেগুলি। সন্ধ্যার পর রাস্তার দু’পাশে বাইক পার্ক করা হচ্ছিল। তৈরি হচ্ছিল তীব্র যানজট। পাশাপাশি দোকানগুলির আড়ালে থাকা গঙ্গার ঘাটে গজিয়ে উঠছিল নেশার ঠেক। বৃহস্পতিবার হাওড়া সিটি পুলিস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযানে নামে। ২৫টি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

ফোরশোর রোডের রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে তেলকল ঘাট পর্যন্ত গঙ্গার ধার ঘেঁষে প্রায় ৩০০ মিটার অংশে গত কয়েক মাসে প্রচুর ছোট দোকান তৈরি হয়েছিল। মূলত বিকেলের পর দোকানগুলিতে ভিড় জমতে শুরু করত। সেখানে চা-কফি থেকে শুরু করে স্যান্ডউইচ, রোল, চাওমিন, কাবাব সহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড বিক্রি হতো। এলাকাটি পোর্ট ট্রাস্টের অধীন। তাদের কোনও অনুমতি ছাড়াই সেগুলি চলছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকানকে কেন্দ্র করে পার্কিং নিয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সন্ধ্যার পর বেআইনিভাবে রাস্তার দু’পাশে বাইক পার্ক করা হচ্ছিল। যানজট নিত্যদিনের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রশাসনের। পাশাপাশি দোকানগুলিতে নিয়মবিধির তোয়াক্কা না করে উঁচু স্বরে বাজানো হতো সাউন্ড বক্স। ফলে ওই এলাকা দিয়ে হাঁটাচলা করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। এছাড়াও আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ পায় পুলিস। জানা গিয়েছে, ফাস্ট ফুডের দোকানের আড়ালে বেশ কিছু জায়গায় নেশার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছিল। এই সুযোগে সংলগ্ন ঘাট এলাকাগুলিতে গজিয়ে ওঠা মদ-গাঁজার ঠেকে ভিড় বাড়ছিল বহিরাগতদের। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও হাওড়া সিটি পুলিস যৌথ অভিযান চালিয়ে এদিন দুপুরে রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে তেলকল ঘাট পর্যন্ত ২৫টি গুমটি দোকান উচ্ছেদ করে।
পোর্ট ট্রাস্টের দাবি, অস্থায়ী দোকানগুলির মালিকদের অনেকে ওখানে দোকান তৈরি করার জন্য লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও ধরনের অনুমোদন দেয়নি পোর্ট ট্রাস্ট। তারপর লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ওই আবেদনপত্রটি দেখিয়েই বেআইনিভাবে চলছিল দোকানগুলি। তাই সেগুলিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাওড়া থানার তরফে গত সাত দিন আগে প্রতিটি দোকানকে সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম কমবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ